ব্যুরো নিউজ, ১২ই মে ২০২৬ঃ খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জেরে গত এপ্রিল মাসে দেশে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৮ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ৩.৪০ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ষষ্ঠ মাসে মুদ্রাস্ফীতিতে বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হল, যা অক্টোবর ২০২৫ থেকে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
গত অক্টোবর মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ০.২৫ শতাংশ, যা নভেম্বরে ০.৭১ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ১.৩৩ শতাংশে পৌঁছেছিল। এরপর জানুয়ারিতে ২.৭৪ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩.২১ শতাংশে পৌঁছানোর পর টানা তিন মাস ধরে এটি ৩ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে। যদিও এই হার এখনও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ৪ শতাংশের সহনশীলতার নিচেই রয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের পকেটে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কনজিউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্স (CFPI) অনুসারে, এপ্রিল ২০২৬-এ বার্ষিক খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.২০ শতাংশ, যা মার্চ মাসের ৩.৮৭ শতাংশের তুলনায় বেশি। গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি (৪.২৬ শতাংশ) শহরাঞ্চলের (৪.১০ শতাংশ) চেয়ে বেশি।
আঞ্চলিকভাবে, দক্ষিণ ভারতে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সবচেয়ে তীব্র। তেলেঙ্গানায় খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৮১ শতাংশ এবং খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকেও মুদ্রাস্ফীতির হার উদ্বেগজনক। এই পরিসংখ্যানগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং আগামী দিনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।





















