ব্যুরো নিউজ, ১২ই মে ২০২৬ঃ বর্ধমানের রথতলা পদ্মপুকুর এলাকায় এক মহিলাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে। ১৭ বছর আগে গর্ভবতী অবস্থায় স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর, গতকাল শ্বশুরবাড়িতে এসে মোটা টাকা দাবি করে অভিযুক্ত। টাকা দিতে অস্বীকার করায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। মৃতার নাম শিবানী দাস ওরফে শিবানী পাল (৫৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৮ বছর আগে হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা সঞ্জয় পালের সঙ্গে শিবানী দেবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন শিবানী। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে শিবানী তাঁর বাবার বাড়িতেই থাকতেন এবং সেখানেই তাঁর একটি কন্যাসন্তান হয়।
গতকাল বিকেলে সঞ্জয় পাল হঠাৎই শিবানীর বাবার বাড়িতে এসে মোটা টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে সঞ্জয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিবানীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন। শিবানীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে সঞ্জয় তাঁর এক আত্মীয় রুদ্র দাসকেও কোপানোর চেষ্টা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় শিবানীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় মৃতার দাদা গৌতম দাস বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত সঞ্জয় পালকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের ফাঁসি হোক। অন্যদিকে, ধৃত সঞ্জয় পাল পারিবারিক বিবাদের কথা স্বীকার করেছেন।




















