ব্যুরো নিউজ, ৯ই মে ২০২৬ঃ করোনার মত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে হান্টা ভাইরাস। আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরী MV Hondius-এ একাধিক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রমণে একাধাক জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের কারও কারও মতে, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণকে এখনই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে থাকা এই প্রমোদতরীতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যাত্রাপথেই কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্ট এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে পরীক্ষায় হান্টাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি সামনে আসে। সংক্রমণের জেরে ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন অসুস্থ রয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজটিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই সব মিলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
AIIMS দিল্লীর চিকিৎসক এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ পুনীত মিশ্রর মতে, হান্টাভাইরাস ভাইরাসবাহিত অসুখই। সম্প্রতি আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে প্রমোদতরীতে হান্টা ভাইরাসের প্রকোপের বিষয়টি অনেককে ভাবিয়েছে। তবে এটি আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় নয়। এই সংক্রমণ নতুন কিছু নয়। কোভিড অনেকের কাছে একটি নতুন ধরনের ভাইরাস ছিল। আমরা কোভিড সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এর সংক্রমণের মাধ্যম ছিল শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমেও। এই ভাইরাসটি ইঁদুর, ছুঁচো, ইঁদুর ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়… মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কিছু ঘটনা রিপোর্টেড হয়েছে। অ্যান্ডিস নামে একটি ভাইরাস মারফতই এটি ছড়াচ্ছে । মূলত, এটি ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তিনি আরও বলেন, এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো ক্লান্তি, জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, এবং পেশী ও গাঁটে ব্যথা । ভাইরাসের ধরনের উপর নির্ভর করে, ফুসফুস সম্পর্কিত লক্ষণ, অর্থাৎ ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিডনিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সাধারণত হান্টাভাইরাস ইঁদুর থেকে ছড়ায়, তবে এই ক্ষেত্রে অ্যানডেস (Andes) নামক যে ধরনটি পাওয়া গেছে, তা মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। এই ভাইরাস ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যাকে ‘হ্যান্টাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম’ (HPS) বলা হয়। এতে তীব্র জ্বর, পেশিতে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।



















