ব্যুরো নিউজ,৮ এপ্রিলঃ বিশু হলো কেরালার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উৎসব, যা প্রতি বছর এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখে উদযাপিত হয়। এটি মূলত মালায়ালম ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন, যা “চিঁত্রা মাস” এর শুরু। কেরালার মানুষের জন্য বিশু একটি বিশেষ দিন, যা নতুন বছরের সূচনা এবং জীবনের সাফল্য, শান্তি, ও সুখের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
মহাবীর জয়ন্তীতে নিষেধাজ্ঞা: বীড়াট ঘোষোণা হরিয়ানা সরকারের
বিশুর ইতিহাস অত্যন্ত পুরোনো, এবং এটি কৃষি এবং ঋতুচক্রের সঙ্গে যুক্ত। কেরালার কৃষকরা এই দিনটিতে তাদের নতুন ফসল তোলার শুরু করে এবং তার সাথে প্রাকৃতিক উৎসবেরও সূচনা হয়। বিশু কেবল একটি কৃষি উৎসব নয়, এটি সংস্কৃতির একটি অংশও, যেখানে কেরালার লোকেরা তাদের পরিবারের সাথে মিলিত হয়ে আনন্দ ও সুখের কামনা করে। বিশু কেরালায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক বিশেষ দিন। এই দিনে বিশেষ ধরনের পূজা অনুষ্ঠিত হয়, এবং পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে উপহার দেয়। প্রধানত, এই দিনটি “বিশু কণাকাম্মাল” নামে পরিচিত, যেখানে পরিবারের প্রথম সদস্য সকাল বেলা সূর্যের আলো দেখে এবং তার চোখে অমৃত রূপী দৃশ্য দেখে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
নজরকাড়া ডিজাইনের সঙ্গে Toyota লঞ্চ করতে চলেছে Taisor মডেল! রয়েছে দুর্ধর্ষ ফিচারসও!
বিশুর রহস্য:
বিশুর অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হলো “কণাকাম্মাল” (Kani Konna) বা প্রথম সূর্যের আলো দেখে শুভ সূচনা করা। বাড়ির প্রধান সদস্য বা “পিতামহ” একটি বিশেষ জায়গায়, যা সাধারণত মন্দির বা বাড়ির পূজার ঘর হতে পারে, সেখানে শস্য, ফুল, ফল, টাকা, এবং নতুন পোশাক রেখে পূজা করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা একে একে সেই পূজার দৃশ্য দেখে এবং তার মাধ্যমে নতুন বছরে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির আশীর্বাদ লাভ করেন। বিশু উৎসবের একটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “বিশু সাদিয়া”। এই দিনে কেরালার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে সাড়ে আট বা দশ রকমের খাবারের সঙ্গে একটি বিশাল খাওয়ার আয়োজন করে, যা পরিবারের সদস্যরা একত্রে উপভোগ করে।
সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লীগে ‘দু’গোলের চ্যালেঞ্জ’ মোহনবাগানের
বিশু কেবল একটি উৎসব নয়, এটি কেরালার মানুষের জন্য আত্মবিশ্বাস ও নতুন জীবনের শুরু। এটি তাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির একটি বড় অংশ, যা বছরের পর বছর ধরে পালন হয়ে আসছে। এটি কেরালার মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সুদৃঢ়তা, আনন্দ, এবং একতার প্রতীক। বিশু কেবল একটি দিন নয়, এটি কেরালার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।