Dev on Rosevalley case
প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়, ৯ ফেব্রুয়ারি: বেশ কয়েক বছর ধরেই ঘাটালের দলীয় সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের সঙ্গে তৃণমূলের মতান্তর শুরু হয়েছিল। ঘাটালের এক সময়কার সিপিএম পরিবারের সদস্য দেব প্রার্থী হয়েছিলেন, দলনেত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দে। সে সময়, ওই সাংসদ পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ করে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। অনেকেই দাবিদার বলে চলে কাজিয়া। শেষপর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে প্রার্থী করায় থেমে যায় সেই সব দলীয় নেতাদের আস্তিন গোটানো আস্ফালন। দেব বরাবরই বলে এসেছেন, রাজনীতিতে আসা মোটেই লাভের জন্য নয়।  ফিল্মে অভিনয় করে আর পরিচালক হিসাবে টাকা কামিয়েছেন যথেষ্ট। অথচ সেখানে তার একদল অনুগামী এমনকি বিরোধীরাও বলেছেন দেবকে অকারণ নানাভাবে বিব্রত করছে তার দল। কিছু সুযোগ সন্ধানী তার পেছনে পড়ে আছে তার পেছনে। আর আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে উঠল এমপি ল্যাড থেকে ৩০ শতাংশ কাঠমানি নেওয়ার অভিযোগ। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দলেরী এক নেতা সেই ভিডিও প্রকাশ করেছে। বেজায় ক্ষুব্ধ দেব ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েই স্কুল, কলেজ ও ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিচালন সমিতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সংসদে বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে তিনি ভাষণ দিতে গিয়ে বাজিয়ে দিলেন করুন সুর।

৭০০ টাকায় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড | মানিকচকে সক্রিয় দালালচক্র

আগেও বিরোধ ছিল দলের বিধায়কের সঙ্গে

ঘাটালের বহু দশকের সমস্যা হল সেখানকার বন্যা রোধে মাস্টার প্ল্যান। এই মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন ও তার অর্থ বরাদ্দ করার দায়িত্ব কেন্দ্রের। কিন্তু, তিনি সাংসদ থাকার শুরু থেকে সংসদে তা পেশ করেছেন। আর বৃহস্পতিবার শেষ দিনে তার বক্তব্যে জানিয়ে দেন আমি আর সাংসদ থাকি না থাকি ঘাটালের মানুষের দুঃখ যেনও শেষ হয়। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে জিতিয়ে আনার জন্য সেখানকার ভোটারদের এবং যারা ভোট দেননি তাদেরও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেব বলেন, স্পিকারের কাছে জানাতে চাই স্বাধীনতার বছর তিনেক পর ১৯৫০ সাল থেকে ঘাটালের মানুষের বন্যা জনিত দুর্ভোগ টানা চলে আসছে। কিন্তু সরকার নির্বিকার। ঘাটালের সমস্যা তৃণমূল বা বিজেপির নয়। এই সমস্যা সেখানকার অধিবাসীদের। সংসদ কক্ষ থেকে বেড়িয়ে এসে হাসি মুখে দেব সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মানুষের কাজ করতেই এসেছিলেন। রাজনীতি ভাঙিয়ে লাভের লক্ষ্য তার নেই।

বছর কয়েক আগে তার একটি ছবির শুটিংকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ার দলীয় বিধায়কের সঙ্গে তার মতান্তর চরমে পৌঁছেছিল। শোনা যায় ওই বিধায়কের দাপটে বিদেশ থেকে তার শুটিং বন্ধ করে সমগ্র টিম নিয়ে তাঁকে ফেরত আসতে হয়। লোকসান হয় কোটি টাকার কাছাকাছি। তখনই দেবের গলায় বিদায়ের বাজনা শোনা গিয়েছিল। ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চেপে রাখেননি দেব। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তা মিটে যায়। এরপরে তার কাজ নিয়ে দলের মধ্যে একদল ষড়যন্ত্র ও বিরোধী প্রচার শুরু করে। সজাকথার মানুষ দেব এসব মেনে নিতে পারেননি। ভেবেছিলেন, অনেক হিয়েছে বাবা এবার রাজনীতিকে আলবিদা। কিন্তু, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার তাঁকে শান্ত করে দলে রেখে দেন। ক্রমশ দেবের ধারণা হয় ফ্লিম জগত থেকে আসা তৃণমূলের সাংসদরা দলের বাস্তুঘুঘুদের সফট টার্গেট। কারন তারা রাজনীতির ঘোলাজলে সাঁতার কাটতে অভ্যস্ত নয়। বঝেননা প্যাঁচ-পয়জারও। এই সাংসদরা নাকি অধিবেশনে কম হাজিরা দেন। কিছুই সংসদে বলেননা। দলেরও বিশেষ কাজে আসেন না। মেদিনীপুরের এক নায়িকা বিধায়ক নাকি এই ষড়যন্ত্রের বিষয় হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন। প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলছেন না।

Dev resigned from 3 posts

দেবের সদ্য প্রকাশিত অডিও ক্লিপটি এবার অভিমানে ফেটে পরেছেন দেব। তিনি পাল্টা বলেছেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি কোনও কাটমানি কোনও দিন নিয়েছি তবে আমি দলের পাশাপাশি ফ্লিমি পেশাও ছেড়ে দেবো। বিজেপি এহেনও ইস্যুকে ছাড়তে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য, দেব এখন তৃণমূলের থেকে বেরোতে চাইছেন, বাঁচতে চাইছেন। তৃণমূলের স্বরযন্ত্রীরা দেবের শিল্পী ভাবমূর্তি কলুসিত করার জন্য কোমড় বেঁধে নেমেছে। দেব অবশ্য সংসদ কক্ষ থেকে বেড়িয়ে ভলেছে, দলনেত্রীকে সব জানিয়েছি। আমি চাইলেই  যে টিকিট পাবো বা দল আমাকে ছেড়ে দেবে তা নয়। স্বরযন্ত্রীদের উদ্দ্যেশ্যে পাল্টা বলেছেন, সিবিআই আমাকে আড়াই বছর আগে ডেকেছিল। আমি টাকা নিলে আমাকে তারা ছেড়ে রাখতো না। বরং আমি ঘাটাল কলেজের পরিচালন সমিতিতে আসার পরেই সেখানে ছাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে। তার এই পদে আসার আগে কলেজ চত্বরে ছুটির পর মদের বোতল পাওয়া যেত। এসব আমি বন্ধ করে দিয়েছি। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। এসব যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে দুর্নীতি করেছি। তবে, ঘাটাল কলেজ, ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও বীরসিংহ উন্নয়ন পর্ষদে দেবের ইস্তফা বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি। ফলে, দেবকে নিয়ে লোকসভার আগে অন্তত রাজনৈতিক চর্চার জায়গা তৈরি হল। ইভিএম নিউজ

 

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর