[rank_math_breadcrumb]

ব্যুরো নিউজ, ১৬ই মে ২০২৬ঃ প্রতিবেশী এক মহিলার ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হল কাটা মুণ্ডু। আর ড্রামের মধ্যে মিলল দেহের বাকি অংশ। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায়। দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম জিয়া সরদার (৩৮)। অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ মে (মঙ্গলবার) রাতে জিয়া সরদার ও তাঁর স্ত্রী আসমা আক্তারের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় আসমা একটি লোহার রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর অপরাধ আড়াল করতে আসমা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর দেহটি টুকরো টুকরো করে ফেলেন। দেহের হাড় ও মাংস আলাদা করে একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। তিন দিন পর গত ১৫ মে (শুক্রবার) আসমা দেহটি লোপাটের চেষ্টা করেন। দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হল, মরদেহের অবশিষ্টাংশ মাংসের টুকরোগুলো দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে আসমা শহরের পালং এলাকায় তাঁর পুরনো ভাড়া বাসায় যান এবং এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে মাংসগুলো রাখার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে মরদেহে পচন ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা আসমার আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর ও পদ্মা নদীর তীর থেকে দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিয়ার আত্মীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক কলহ ছাড়া অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর