ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মে ২০২৬ঃ কলকাতা হাইকোর্ট পূর্ব রেলের উচ্ছেদ অভিযানের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য ব্রেস ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বিতর্কিত উচ্ছেদ নোটিশ সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম ২০ মে, ২০২৬ পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায় হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সাময়িকভাবে দূর করেছে। প্রায় ৬,০০০ বস্তিবাসীর পক্ষ থেকে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল, যেখানে পূর্ব রেলওয়ের ০৯.০৫.২০২৬ তারিখের উচ্ছেদ নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।
পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রেল কর্তৃপক্ষ ‘সরকারি প্রাঙ্গণ আইন, ১৯৭১’-এর অধীনে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ না করেই গণ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে। আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী কোনো নোটিশ জারি করা হয়নি এবং কোনো আলোচনার সুযোগও দেওয়া হয়নি, যা আইনানুগ পদ্ধতির পরিপন্থী।
বিচারপতি ভট্টাচার্য তাঁর রায়ে বলেন, “উল্লেখিত জায়গা থেকে আবেদনকারীদের উচ্ছেদের জন্য প্রাসঙ্গিক আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।” প্রতিপক্ষ কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সমঝোতা চাওয়ায় আদালত এই সীমিত সময়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। আদালতের এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেস ব্রিজ এলাকার বস্তিবাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটানো এই পরিবারগুলির জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি।
এখন দেখার বিষয়, রেল কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করে কি না এবং আগামী দিনে এই মামলার কী নিষ্পত্তি হয়। মামলাকারীদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, শমীম আহমেদ, দীপাংশু কর, পূর্বায়ন চক্রবর্তী এবং রেশমা খাতুন। এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে আছেন সকলে।










