ব্যুরো নিউজ, ১৪ই মে ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে প্রকাশ্যে পশুবলি নিষিদ্ধ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাস্তার ধারে বা খোলা জায়গায় ছাগল, গরু, মহিষ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলি দেওয়া যাবে না। জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পশুবলি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই শংসাপত্র যৌথভাবে দেবেন পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক। শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে পশুর উপযুক্ততা সম্পর্কে স্পষ্ট যুক্তি দিতে হবে। এছাড়াও, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো পশুকে বলি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শংসাপত্র পেলেও প্রকাশ্যে পশুবলি নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাগুলিতেই এই কাজ করা যাবে। কলকাতা হাইকোর্টের পুরনো এক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা আইন ১৯৫০ প্রয়োগ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশিকা অমান্য করেন এবং দোষী প্রমাণিত হন, তবে তাঁর ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এই নতুন নিয়ম রাজ্যের ধর্মীয় পশুবলি প্রথাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।










