ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মে ২০২৬ঃ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর শুভেন্দু অধিকারী। আর জি কর কাণ্ডে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর আর জি কর থেকে সন্দেশখালি পর্যন্ত সমস্ত ফাইল খোলা হবে। সেই কথার সূত্র ধরেই এবার আর জি কর কাণ্ডের ফাইল খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিন আইপিএস অফিসার বিনিত গোয়েন, ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর নির্দেশে সাসপেন্ডেড অফিসাররা কাজ করেছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। তিনি যে তদন্তের বাইরে নন তাও জানাতে ভোলেননি। বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু আরও জানান, নির্যাতিতার পরিবারকে ভুল তথ্য দেওয়া এবং টাকা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের তদন্ত হবে। তিনি বলেন, “অভয়া কাণ্ডে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কানে খবর এসেছিল যে দুই পুলিশ অফিসার নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বলা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে তাদের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব কারা দিয়েছিল, কেন দিয়েছিল, আদৌ রাজ্য সরকারের কথায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল নাকি অন্য কিছু এর পেছনে লুকিয়ে আছে, সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।”
মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিলোত্তমার মা-ও। বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য।”
প্রসঙ্গত, ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে অভয়া কাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এই তদন্তের মাধ্যমে অভয়ার পরিবার শেষ পর্যন্ত বিচার পাবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।










