ব্যুরো নিউজ,২২ ফেব্রুয়ারি :ভগবত গীতার ওপর হাত রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তদন্তকারী সংস্থা ‘ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ (এফবিআই)-র ডিরেক্টর হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ প্যাটেল। শপথ গ্রহণের পর কাশ জানিয়েছেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, “আমি মনে করি, কাশ এই পদে সেরা হবে। এজেন্টরা তাকে খুব ভালোবাসে।”
কৃষ্ণনগর পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি
সমস্যায় জর্জরিত
কিন্তু, কাশের জন্য দায়িত্বটা সহজ হবে না। বর্তমানে এফবিআই নানা সমস্যায় জর্জরিত। গত কয়েক মাসে অনেক বর্ষীয়ান কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটলে হিংসা ঘটনায় এফবিআইয়ের অনেক এজেন্ট যুক্ত ছিল। এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রশাসন ওই সব এজেন্টদের নাম চেয়ে পাঠিয়েছে।
কাশ ইতিমধ্যেই বড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছেন। সূত্র অনুযায়ী, তিনি ওয়াশিংটনে এফবিআইয়ের সদর দফতরের ১,০০০ অফিসারকে আমেরিকার অন্যান্য ফিল্ড অফিসে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তার মতে, প্রাথমিকভাবে ১,৫০০ কর্মীকে অন্যত্র সরানো হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ কর্মীকে আলাবামার এফবিআই অফিসে পাঠানো হতে পারে। এর ফলে, এফবিআইয়ের সদর দফতরে অফিসারের সংখ্যা কমিয়ে বিভিন্ন শহরে নতুন করে তাদের মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা হাই কোর্টে নীল-সাদা রং নিয়ে জনস্বার্থ মামলা
কাশ প্যাটেলের পরিবারের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। তার পরিবার গুজরাটের আনন্দ জেলার ভদ্রন গ্রাম থেকে উগান্ডায় পাড়ি জমায় ৭০-৮০ বছর আগে। কাশ প্যাটেল গুজরাটের পতিদার সম্প্রদায়ের সদস্য। তাঁর পরিবারের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, কাশের বাবা প্রমোদ প্যাটেল ‘বংশবলী’-তে অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এখনও কাশের নাম সেখানে যুক্ত হয়নি। আনন্দের বিজেপি সভাপতি রাজেশ প্যাটেল বলেছেন, কাশের পরিবারের কোনো সদস্য যখন ভারতে ফিরবেন, তখন বংশবলী-তে কাশের নাম যুক্ত করার অনুমতি চাওয়া হবে।কাশ প্যাটেল এখনই ইতিহাস তৈরি করেছেন, কারণ তিনি প্রথম ইন্দো-মার্কিন হিসেবে এফবিআইয়ের ডিরেক্টর হয়েছেন। এই পদে তার আগমন ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য একটি গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।