ব্যুরো নিউজ ২৬ মে : বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। জাপানকে পেছনে ফেলে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। নীতি আয়োগের (NITI Aayog) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) বি.ভি.আর. সুব্রহ্মণ্যম শনিবার (২৪ মে) নীতি আয়োগের দশম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকের পর এই সুখবর ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, দেশের জিডিপি (GDP) ৪ ট্রিলিয়ন ডলার (৪,০০০ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
নীতি আয়োগের সিইও’র ঘোষণা ও পরিসংখ্যান
নীতি আয়োগের সিইও বি.ভি.আর. সুব্রহ্মণ্যম বলেছেন, “আজ আমরা চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। আমরা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছেছি।” তিনি আরও জানান যে, এই মুহূর্তে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জার্মানি ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সুব্রহ্মণ্যম আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF) এর তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ভারত আজ জাপানের চেয়েও বড় অর্থনীতি। আইএমএফের এপ্রিল ২০২৫ এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (WEO) রিপোর্টেও ২০২৫ সালে ভারতকে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র (২০২৫ সালের আইএমএফ তথ্য অনুযায়ী):
১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: $30.51 ট্রিলিয়ন
২. চীন: $19.23 ট্রিলিয়ন
৩. জার্মানি: $4.74 ট্রিলিয়ন
৪. ভারত: $4.19 ট্রিলিয়ন
৫. জাপান: $4.19 ট্রিলিয়ন
যদিও ভারত এবং জাপানের উভয়ের ক্ষেত্রে জিডিপি $4.19 ট্রিলিয়ন দেখানো হয়েছে, তবে আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের এই অঙ্ক জাপানের চেয়ে সামান্য বেশি হওয়ার সম্ভাবনা।
দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতির খেতাব
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই বছর ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতি হিসেবে থাকবে, যেখানে ২০২৫ সালে ৬.২% এবং ২০২৬ সালে ৬.৩% বৃদ্ধির হার প্রত্যাশিত। এটি বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সুব্রহ্মণ্যম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন যে, যদি বর্তমান পরিকল্পনা এবং কৌশল অনুসারে কাজ চলে, তবে আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দেশটিকে উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
কীভাবে এই মাইলফলক অর্জিত হলো?
ভারতের এই অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ:
- অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি: বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
- বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের পদক্ষেপ: গত এক দশকে গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- উত্পাদন শিল্পের বিকাশ: ভারতে আইফোনসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করছে। সুব্রহ্মণ্যম ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতের শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত সস্তায় পণ্য উৎপাদনের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
- ডিজিটালাইজেশন: ডিজিটাল লেনদেন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করেছে।কলকাতায় তিরঙ্গা যাত্রা ,বিএসএফ জওয়ান মুক্তি, ভুয়ো খবর দমন, সন্ত্রাসবাদ নিপাতন : মোদীর নেতৃত্বে দেশ সুরক্ষিত দাবি শুভেন্দু অধিকারীর
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
নীতি আয়োগের সিইও আরও উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের সম্পদ নগদীকরণ পরিকল্পনার একটি নতুন দফা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগস্টে ঘোষণা করা হবে। এটি অর্থনীতির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে, এই অর্জনের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই কারণগুলি ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে কিছুটা কমিয়ে এনেছে (আগে যা ছিল ৬.৫%)। তা সত্ত্বেও, ভারত তার শক্তিশালী ম্যাক্রো-ইকোনমিক মৌলিক বিষয়াদি এবং স্থিতিশীল সংস্কারের মাধ্যমে আগামী বছরগুলিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করছে, যা আন্তর্জাতিক ক্ষমতা কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।