শীতের মরসুমে বেড়ানোর আদর্শ স্থান কচ্ছের রণ।

ব্যুরো নিউজ,৩০ ডিসেম্বর:যদিও সারা বছরই ভ্রমণের সময় তবে শীতের মরসুমে এক আলাদা রকম সৌন্দর্য থাকে প্রকৃতিতে। ঠান্ডার মধ্যে উত্তুরে হাওয়া বইলে গরমের কড়া রোদের তুলনায় কিছুটা আরামদায়ক অনুভূতি হয়। আর এই সময়টাই ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ। কারণ, শীতকালেই অনেক পর্যটনকেন্দ্র তার শোভা প্রকাশ করে, যা অন্য কোন মরসুমে উপভোগ করা যায় না। গরম বা বর্ষাকালে যেসব স্থান ভ্রমণযোগ্য নয়, শীতে সেগুলি হয়ে ওঠে একদম আদর্শ। কেরল, গুজরাত এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলো বিশেষ করে শীতকালীন ভ্রমণের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এমনই কিছু অসাধারণ জায়গার মধ্যে কচ্ছের রণ অন্যতম, যা আপনি শীতকালে অবশ্যই ঘুরে দেখতে পারেন।

কলকাতার কাছে দু’দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন পুষ্পবন ও দেউলটি

কচ্ছের রণ: গুজরাতের রহস্যময় সৌন্দর্য

গুজরাতের কচ্ছ জেলা গুজরাতের উত্তর-পাকিস্তান সীমান্ত অবস্থিত, যার সৌন্দর্য অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কচ্ছের ‘সাদা রণ’ নামক অঞ্চলটি শীতকালে একেবারেই আলাদা এক সৌন্দর্য নিয়ে আসে। রণ শব্দটির অর্থ মরুভূমি, তবে এটি মূলত একটি মরসুমি জলাভূমি, যেখানে শীতকালে লবণাক্ত জল বাষ্পীভূত হয়ে বিশাল সাদা ভূখণ্ড তৈরি করে। এই সময় এখানে হেঁটে বেড়ানো এবং উটের পিঠে ভ্রমণ করার সুযোগও থাকে।গরমের তাপে এই জলাভুমি শুকিয়ে গিয়ে শক্ত ভূমি তৈরি হয়, যার মধ্যে অগণিত লবণাক্ত ঝিলিক থাকে। এই সময় কচ্ছের রণ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে, বিশেষ করে রাতের বেলা চাঁদের আলোতে এটি যেন এক নয়া রূপ নেয়। চন্দ্রালোকিত রণের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবারই দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় জমায়।

কলকাতার একেবারে কাছেই টাকির বিশ্রাম বাগানবাড়িঃ একদিনের নিরিবিলি ভ্রমণের জন্য আদর্শ গন্তব্যে ঘুরে আসুন 

রণ উৎসব: একটি অতুলনীয় অভিজ্ঞতা

গুজরাত সরকার প্রতি বছর শীতকালে কচ্ছের রণে আয়োজন করে “রণ উৎসব”। এই উৎসবটি ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকে। উৎসবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে, যেখানে স্থানীয় গুজরাতি নাচ-গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী বাজারের দেখা মেলে। রণ উৎসবের সময় বিভিন্ন তাঁবুতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা থাকে, এবং এখানকার পসরা, খাবার এবং পোশাক দেখতেও এক আলাদা মজা পাওয়া যায়। পর্যটকরা এই উৎসবের মধ্যে দিয়ে কচ্ছের রণের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

ঘুরে আসুন দুধসাগর জলপ্রপাত প্রকৃতির এক অমলিন সৌন্দর্য

থাকার জায়গা ও যাতায়াত

যদি আপনি কচ্ছের রণে গিয়ে থাকতে চান, তবে বিলাসবহুল তাবুতেও থাকতে পারেন। তবে, আরামপ্রিয় হলে, কচ্ছের নিকটবর্তী শহর ভূজের হোটেলও থাকতে পারেন। ভূজ শহরটি কচ্ছের কাছে অবস্থিত এবং এখানে প্রচুর হোটেল রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা থাকতে পারেন। ভূজ থেকে গাড়ি নিয়ে কচ্ছের রণ ঘুরে আসা খুবই সহজ এবং সুবিধাজনক। এছাড়া ধোলাবীরার মতো দর্শনীয় স্থানেও থাকতে পারেন।

 মন ভালো করার সেরা গন্তব্য , ঘুরে আসুন হিমাচাল প্রদেশের স্পিতি উপত্যকা

যাতায়াতের জন্য, আপনি যদি বিমানে যেতে চান, তাহলে আমদাবাদ পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কচ্ছের রণ দেখতে যেতে পারেন। ভূজ থেকেও আপনি কচ্ছের রণ পৌঁছাতে পারবেন, যেখানে রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দর দুটি আছে। কলকাতা থেকে আমদাবাদ পৌঁছে ট্রেনও ধরতে পারেন, এরপর সেখানে থেকে সড়কপথে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে কচ্ছের রণ। ঘণ্টা তিন-চারেকের মধ্যে আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন।কচ্ছের রণ শীতকালে এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে, যা যেকোনো পর্যটকের মনে চিরকাল একটি স্মৃতি হিসেবে থাকবে।

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর