ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মে ২০২৬ঃ মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালা মন্দির-কমল মওলা মসজিদ চত্বরের দীর্ঘদিনের বিতর্কে এক ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। শুক্রবারের রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই চত্বরের বিতর্কিত অংশটি আদতে মন্দির হিসেবেই গণ্য হবে। এখন থেকে একমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই সেখানে তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন। মুসলিম সম্প্রদায়কে মসজিদ নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আলাদা জমির আবেদন জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের তৈরি এই ভোজশালা মন্দির দেবী সরস্বতীর আরাধনার জন্য নির্মিত হয়েছিল, যা সংস্কৃত ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল বলে হিন্দু পক্ষ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ এটিকে কমল মওলা মসজিদ বলে দাবি করে। আদালতের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলোক অবস্থী তাঁদের রায়ে জানিয়েছেন, ভোজশালা চত্বরে সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। ঐতিহাসিক নথিও রাজা ভোজের সঙ্গে এই এলাকার সম্পর্ককে সমর্থন করে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার রিপোর্ট এই রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৯৮ দিনের সমীক্ষায় ২০০০ পাতারও বেশি রিপোর্টে বিতর্কিত অংশে পারমার বংশের স্থাপত্য এবং পুরোনো মন্দিরের কাঠামোর অংশ নতুন করে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
আদালত ASI-কে এই চত্বরের দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে এবং লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা দেবী সরস্বতীর মূর্তি ফিরিয়ে এনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠার নির্দেশও দিয়েছে। এই রায় বহু প্রতীক্ষিত একটি বিতর্কের অবসান ঘটাল।










