ব্যুরো নিউজ, ৮ই মে ২০২৬ঃ এবারের নির্বাচনে নিজের জায়গা ভবানীপুর থেকেই ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি । এখনও সমাজমাধ্যমে তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেননি। এখনও সেখানে নিজেকে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে পরিচিত করছেন। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ বা এক্স হ্যান্ডল খুললেই এই পরিচয় দেখা যাচ্ছে। নামের আগে সমাজমাধ্যমেও ‘প্রাক্তন’ জুড়তে নারাজ মমতা।
২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন বিজেপি জিতে নিয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। এই পরিস্থিতিতে জনগণের রায় মেনে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়াই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর করণীয়। কিন্তু মমতা সে পথে হাঁটেননি।গণনাকেন্দ্রে কারচুপি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মদতে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। ইস্তফা দেব না, রাজভবনেও যাব না।” কিন্তু তার এই বক্তব্যের তোয়াক্কা না করেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজভবন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।এর ফলে ইস্তফা না দিলেও নিয়ম অনুযায়ী আর মুখ্যমন্ত্রী পদে রইলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিয়ম অনুযায়ী, ৭ই মে পর্যন্ত পুরনো সরকারের মেয়াদ ছিল । মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুরনো মন্ত্রীসভার আর কোনও কার্যকারিতা থাকে না। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র পেশ করেন এবং নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো সেই পথে না হাঁটায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও বিধানসভা ভেঙে যাওয়ায় তাঁর সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিকে বাংলার ইতিহাসের ‘কালো দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, বরং পেশিবল ও কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে।
এই বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসাবে দেখা যেতে পারে। বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ মন্ত্রীসভাও অস্তিত্বহীন। তবে সেই মুহূর্তেই নতুন একটি মন্ত্রিসভাকে আত্মপ্রকাশ করতে হবে, এমন কোথাও লেখা নেই। তা ছাড়া, রাজ্যের শাসনকাজ চলে রাজ্যপালের নামে। মন্ত্রীপরিষদ একটি ‘প্রদত্ত ক্ষমতা ভোগ’ করে রাজ্যপালের হয়ে কাজ চালায়। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা বা মন্ত্রীসভা রইল না, তাই বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যপালের ক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য কোনও প্রতিনিধি রইল না। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাল আপাতত সরাসরিই নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।



















