ব্যুরো নিউজ, ৭ই মে ২০২৬ঃ চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় যত তদন্ত এগোচ্ছে সামনে আসছে একের পর এক নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে পরিকল্পিত ভাবেই । যেই রাস্তায় চন্দ্রনাথকে গুলি করা হয়, সেই জায়গাটি আগে থেকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল বলেই মনে করছে তদন্তকারীরা। রাস্তাটি ক্রমশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে, আর তারই সুযোগ নিয়েছে আততায়ীরা, এমনটাই ধারনা করছে পুলিশ। খুনের পর দুষ্কৃতীরা সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে পারে বলেও তদন্তে উঠে আসছে।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ গাড়ি করে নিজের ভাড়ার ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন। সেই মুহূর্তে মধ্যমগ্রামের মুজিবর রহমান রোডে উল্টো দিক থেকে একটি সাদা গাড়ি এসে তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠিক তখনই এরপর একটি বাইকও সেখানে পৌঁছে যায়। তারপর মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় গুলি। পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয় চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে। যেই রাস্তায় তাকে আটক করা হয় , সেটি খুবই সরু এবং নির্জন। আশপাশে একাধিক ছোট গলি থাকায় হামলার পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়াও সহজ ছিল, এমনটাই তদন্তকারীদের অনুমান। পাশাপাশি পুলিশও জানায়, স্করপিওর গতি যাতে বাড়াতে না পারে, সেই কারণেই পরিকল্পনা করে ওই জায়গায় পথ আটকানো হয়েছিল। আরও অনুমান করা হচ্ছে পুরো বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত । কারন জানা গেছে, যেখানে গুলি চালানো হয়েছে, সেই কারখানার সামনে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। ফলে হামলাকারীদের সংখ্যা বা তাদের মুখ পরিষ্কারভাবে জানা এখনও সম্ভব হয়নি। তার উপর ঘটনার সময় ভারী বৃষ্টি হওয়ায় মধ্যমগ্রামের মুজিবর রহমান রোড প্রায় ফাঁকাই ছিল। সেই সুযোগই কাজে লাগানো হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
খুনের পর আততায়ীরা বাদু রোডের দিক দিয়ে পালিয়ে যায় বলে অনুমান। ওই রাস্তা ধরে খড়িবাড়ি, শাসন হয়ে বসিরহাটের দিকে পৌঁছনো যায়। তাই সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে বাংলাদেশ যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনে ব্যবহার করা হয়েছে ৭.৬৫ বোরের সেমি অটোমেটিক পিস্তল।তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকেও গুলি চালানো হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তৎপরতার সাথে গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।


















