ব্যুরো নিউজ,২৭ সেপ্টেম্বর:বীরভূমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম নিয়ে গোটা জেলা ছিল আলোচনায়। বলা হত, “বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত”। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে—সেই দিন কি শেষ হয়ে গেছে?
তিনি কি কালীঘাটে মমতার বাড়িতে যাবেন?
সম্প্রতি তিহাড় জেলে কাটানো সময় শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, যিনি বীরভূমের ‘কেষ্ট’ হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদধন্য হিসাবেও তার খ্যাতি রয়েছে। কেষ্ট জেল থেকে মুক্তি পেয়েই বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এ সময় তার বক্তব্য এবং আচরণ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।অনুব্রত দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকলেও, তিনি দলের জেলা সভাপতি পদ থেকে সরেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাকে সমর্থন করে আসছেন। গরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রত এবং তার মেয়ের গ্রেফতারির পরও মমতা কেষ্টর পাশে দাঁড়ান। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে দলের সংগঠন কি ঠিকভাবে চলেছে?তথ্য অনুযায়ী, অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে বীরভূমে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচনে দল সফলভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম সফরে কেষ্টকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি, আর অনুব্রতও সাংবাদিক সম্মেলনে মমতার বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পর দলের সংগঠনের কাজে ফিরবেন এবং সকলকে নিয়ে চলবেন।অনুব্রতর অনুপস্থিতিতে দলের জেলা কার্যালয়ে কোর কমিটির সদস্যদের ছবি টাঙানো ছিল, যা তার ফিরে আসার পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে পুনরায় অনুব্রতের ছবি দেখা যাচ্ছে।
চান্দু চ্যাম্পিয়ন: নভদীপ সিংয়ের অনুপ্রেরণা
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বীরভূমে কি তৃণমূল আগের মতোই অনুব্রতর নেতৃত্বে সংগঠিত হবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক রসায়ন তৈরি হবে? কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে আসার পরিকল্পনা আছে অনুব্রত মণ্ডলের। তিনি কি কালীঘাটে মমতার বাড়িতে যাবেন? নাকি অন্য কোথাও সাক্ষাৎ হবে? এইসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।


















