সম্মান

ব্যুরো নিউজ, ১ ডিসেম্বর: প্রাপ্য সম্মান পাননি জগদীশ চন্দ্র

বিজ্ঞান আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু গাছের প্রাণ আবিস্কার করেননি। বরং তিনি গাছের সুক্ষ বৃদ্ধি মাপার যন্ত্র কেসকোগ্রাফ  আবিস্কার করেছিলেন। এমনই দাবি করলেন জনৈক অভিজিৎ মিত্র। তার মতে গাছের সুক্ষ কম্পন ও যন্ত্রনাগুলো ধরা পড়তো কেসকোগ্রাফে। আর এই দিকটাই নাকি বিশ্ববাসীর কাছে অজানা রয়ে গেছে। তাই যে প্রাপ্য সম্মান, খ্যাতি ও প্রচার পাওয়ার কথা ছিল তা জগদীশ চন্দ্র পাননি। পশ্চিমী দুনিয়া তাঁকে জীবদ্দশায় সম্মান দেয়নি। এমনকি ভারতবাসীও তাঁকে সেই সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছিল।

অযথা সময় নষ্ট নয়, বললেন বিচারপতি সিনহা

পদার্থবিদ ও উদ্ভিদ গবেষক জগদীশ চন্দ্র প্রথম দেখিয়ে ছিলেন ইন্টার ডিসিপ্লিনারি বলতে কি বোঝায়। আবার তিনিই প্রথম ডায়োড তৈরি করেছিলেন। আবিষ্কার করে ছিলেন ওয়ার লেস কমিউনিকেশন। তাঁরই এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় মিলি মিটার ওয়েভ কমিউনিকেশনের জনক ছিলেন তিনি। এখান থেকে অগ্রগতি ঘটেছিল রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও স্যাটেলাইত-এর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে পাশ করে লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে কাজ করতেন প্রফেসার র‍্যালের অধিনে। র‍্যালের সুপারিশেই তিনি কলকাতায় এসে সরাসরি প্রেসিডেন্সি কলেজের ভৌত বিজ্ঞানের প্রফেসার হন। কিন্তু কলেজে ব্রিটিশ অধ্যাপকদের দাপটে তাঁকে ব্রাত্য রাখা হয়েছিল তাঁকে। কলেজের একটি ছোট্ট ঘরে তিনি নিজেই গবেষণাগার তৈরি করেন।নিজের বেতনেই কেনেন বহু যন্ত্রপাতি।

১৮৯৫ সালে তিনি বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে ৭৫ ফুট দুরে তার ছাড়াই কীভাবে বেল বাজানো যায়, সশব্দে গান পাউডার ফাটানো যায় তা দেখালেন। এ ধরনের যন্ত্রের পেটেন্ট চলে গিয়েছিল পরে একই আবিষ্কার দেখানো মার্কনির হাতেই। নিজে পেটেন্ট নিতে উৎসাহী ছিলেন না জগদীশ। ১৯০৯ সালে তিনি নোবেল পান।

এর পাশাপাশি ১৮৯৪-১৯০০ সালের মধ্যে উনি তৈরি করেছিলেন এক মাইক্রোওয়েভ সনাক্তকারী সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র। যা দিয়ে মাইক্রোওয়েভের ১২ থেকে ৬০ গিগাহার্জ (১ গিগাহার্জ = প্রতি সেকেন্ডে ১০০ কোটি কম্পন) অব্ধি সনাক্ত করা যেত। সেই যন্ত্রে ওনার আবিষ্কৃত ক্রিস্টাল সনাক্তকারী ছিল হাতে-কলমে তৈরি প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড। ১৮৯৭ সালে লন্ডনে এক প্রদর্শনীতে উনি এই আবিষ্কার দেখান।

সেই ডায়োডের ওপর ভর করে তিনজন আমেরিকান বিজ্ঞানী বার্ডিন, ব্র্যাটেন এবং শক্‌লে পরবর্তীকালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করে ১৯৫৬ সালে নোবেল পেয়ে গেলেন। জগদীশ চন্দ্র বেতার ও যোগাযোগ নিয়ে যে যে গবেষনা করলেন, যা যা দেখালেন, সেইসবের কৃতিত্ব নিয়ে চলে গেল অন্যরা। তিনি ১৯০৪ সালে প্রথম এশিয়ান বিজ্ঞানী হিসাবে আমেরিকার থেকে এক পেটেন্ট আদায় করেছিলেন। ইভিএম নিউজ


		

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর