ব্যুরো নিউজ,২ এপ্রিলঃ টলিউডের অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায় নতুন বছরে এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ‘বহুরূপী’ ছবিতে নজর কাড়ার পর এবার তিনি সোজা পা রেখেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের দুনিয়ায়। নন্দিতা-শিবপ্রসাদের হাত ধরে পরিচিতি পেলেও, এবার তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৃজিতের ছবি। এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি।
স্টাইল নাকি ফাঁদ? দাড়ির মধ্যে লুকিয়ে ছত্রাকের সাম্রাজ্য!
চুম্বন দৃশ্য নিয়ে দ্বিধা
কৌশানী নিজেই জানিয়েছেন, নয় বছর অপেক্ষার পর সৃজিত মুখোপাধ্যায় অবশেষে তাঁর দিকে নজর দিয়েছেন। যদিও ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মুখ ঘুরেফিরে আসে, তবুও ‘বহুরূপী’ যেন তাঁর নতুন পথ খুলে দেয়। সৃজিত যখন তাঁকে প্রথমবার ফোন করেন, তখন এক অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন করেন— “তোমার চুম্বন দৃশ্যে অভিনয়ে সমস্যা আছে?” প্রথমে কৌশানী দ্বিধায় পড়লেও পরে চিত্রনাট্য শোনার পর বুঝতে পারেন, গল্পের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, “চুমু খাওয়াটাই আসল বিষয় নয়, চরিত্রের গভীরতা আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে।” এই দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে তিনি চাপে ছিলেন, এমনকি সহ-অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেও নার্ভাস লাগছিল। তবে ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’-এর সাহায্যে স্বচ্ছন্দ হতে পেরেছেন তিনি। মজার ব্যাপার, কৌশানী আগেই সৃজিতকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রিটেক করা যাবে না!
ভালোবাসা দিবসে রণবীর কাপুরের নতুন চমক—লঞ্চ করলেন নিজের লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘ARKS’
সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে অনেক গুঞ্জন থাকলেও, কৌশানী বলছেন, “সৃজিতদা যখন মনিটরে বসেন, তখন এক রকম, আবার সেটের বাইরে একদম আলাদা মানুষ। ওর কাজের দিকটা সত্যিই জাদুকরী।” তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালীন তিনি একেবারে চরিত্রের মধ্যেই ডুবে গিয়েছিলেন। এমনকি এক মাস সমাজমাধ্যম থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। পরমব্রতও সহ-অভিনেতার পাশাপাশি কোথাও না কোথাও পরিচালক হিসেবেও তাঁর অভিনয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, “পরমদা নিজেই এত অভিজ্ঞ, ওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি।”
চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে বনির (অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত) প্রথমে কিছুটা অস্বস্তি ছিল। তবে কৌশানী মনে করেন, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে এসব ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি যদি বনির জায়গায় থাকতাম, আমিও প্রভাবিত হতাম। কিন্তু একজন অভিনেতার কাজকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।” মুম্বইতে কাজের প্রসঙ্গে কৌশানী জানান, তিনি সেখানে কাজ করতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যেই কিছু অডিশনও দিয়েছেন। তবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মুখ টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁর মত, পারিশ্রমিকের অসামঞ্জস্যতা এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাই বড় কারণ।
শিক্ষা নয়, ছুটিই বেশি! গরমের ছুটির নামে পিছিয়ে পড়ছে ছাত্রসমাজ?
সমাজমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তিনি বলেন, “আজকাল সবাই অভিনেতা হয়ে যাচ্ছে! ইউটিউবাররা নিজেদের অভিনেতা বলছেন, কারণ তারকাদের প্রচারেও এখন তাঁদের দরকার হয়। সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রির বাজারটাই বদলে যাচ্ছে।” সৃজিতের ছবিতে কাজ করা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা, এমনটাই মনে করছেন কৌশানী। এখন দেখার, এই ছবি তাঁকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যায়!