ব্যুরো নিউজ,১ জানুয়ারি:শনি মন্দিরের পাশের ডিজে বক্সের আওয়াজ, বাঁশের খুঁটিতে ঝুলছে বেলুন আর রঙিন কাগজের শিকল, আর চকচকে কাগজের ফুলের তোড়া—এই দৃশ্য যেন বছরের শেষ রাতের চিরচেনা চিত্র। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। মন্দিরের কাছেই ক্লাবঘরের বারান্দায় বড় হান্ডায় ফুটছে মটন মাংস, আর তন্দুরি রুটি।বানানোর জন্য এসেছেন বিশেষ কারিগর। ক্লাবের ছোট সদস্যদের খাওয়ানোর পর, বড় বোতল খুলে শুরু হয় রাতের আনন্দ। ডিজে থেকে বাজতে থাকে হালকা তালের গান, আর রাত ১১টার পরে উড়ান—তরল থেকে আরও কিছু। ১১:৫৫ নাগাদ শুরু হয় উলটো গুনতি, আর একের পর এক মজাদার অনুষ্ঠানের আয়োজন। এই দৃশ্য শুধু কলকাতা শহরেই নয়, উপকণ্ঠ ও মফস্সলের গ্রামেও দেখা যায়।
চিনা হ্যাকারদের হানাঃ আমেরিকার অর্থ দফতরের সিস্টেমে সাইবার আক্রমণ
উৎসবের রূপ বদল
বাঙালির দুটো নববর্ষ উদযাপন আছে—একটি পয়লা বৈশাখে, অন্যটি ইংরেজি নববর্ষে। পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান হয় পরিবার নিয়ে, মিষ্টি-টক খাবারের সঙ্গে। কিন্তু ইংরেজি নববর্ষে সবাই মেতে ওঠে উচ্ছৃঙ্খলতায়। একদিক থেকে এটি একটি স্মৃতির উদযাপন, আর অন্যদিকে নতুন বছরের শুরুতে নতুন কিছুর আশা নিয়ে খোলামেলা আনন্দ।ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন কোলকাতায় সবসময়ই ছিল, তবে উনিশ শতকে সাহেবপাড়ায় এমন উদযাপন ছিল বাঙালির জন্য অপরিচিত। ইংরেজি নববর্ষে ব্রিটিশ সমাজ শহরে দেদার আনন্দ করত, কিন্তু বাঙালি সেসময় এসব থেকে দূরে থাকত। তবে সময়ের সাথে বাঙালি সমাজও এই উদযাপনের সাথে যুক্ত হতে শুরু করে।আধুনিক কলকাতায়, বিশেষ করে আশির দশকে, নতুন বছর উপলক্ষে হোটেল ও ক্লাবে বড় ধরনের উৎসব হত। ১৯৮০-৯০ সালের দিকে, কলকাতার জাঁকালো হোটেল গ্র্যান্ডের বলরুমে বিদেশি নর্তকীদের নিয়ে অনুষ্ঠান হতো। তবে একসময় গোলমাল বাধানোর কারণে এই ধরনের উদযাপন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবর্তন আসে, তবে উৎসবের রূপ বদলালেও আনন্দের মাত্রা কমেনি।
তাদের সম্পর্ক ভাঙছে আর কারা প্রেমের জোয়ারে ভাসবেন জেনে নিন
বর্তমানে, একসময়কার পার্ক স্ট্রিটে ভিড় বেড়ে গিয়েছে, তবে এখন আর আগের মতো বিদেশি অতিথির সংখ্যা নেই। তবে সাহেবপাড়ার মতো কিছু জায়গায় এখনও তার চিহ্ন রয়ে গেছে।এখনকার কলকাতায়, পার্ক স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ এখনও বজায় রয়েছে। তবে শহরের এই প্রাচীন উৎসবের রীতিনীতির মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বায়নের পর, পার্ক স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটে এখন অনেক ভিন্ন ধরনের উদযাপন দেখা যায়। তবে কলকাতার নববর্ষ উদযাপন এখন অনেকটাই পরিবর্তিত, শহরের প্রতিটি কোণে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপন হলেও, একটি বিষয় স্পষ্ট—কলকাতা এখনও নতুন বছরের আনন্দে মেতে ওঠে, শুধু একটু ভিন্ন রূপে।