ব্যুরো নিউজ,৩১ ডিসেম্বর:ভারতীয় নার্স নিমিশা প্রিয়া, যিনি সাত বছর ধরে ইয়েমেনের জেলে বন্দি ছিলেন, তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় সিলমোহর দিলেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি। ৩৬ বছর বয়সী নিমিশা ২০১৭ সাল থেকে ইয়েমেনে বন্দি ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদিকে হত্যা করেছেন। ২০১৮ সালে ইয়েমেনের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, এবং সম্প্রতি সেই রায়ে সিলমোহর পড়ল। তৎকালীন পরিস্থিতি অনুযায়ী, নিমিশার মৃত্যুদণ্ড এক মাসের মধ্যে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা না ঘটে।
জানেন কি চকোলেট রূপচর্চার সেরা উপকরণ?
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার
নিমিশা পেশায় নার্স ছিলেন এবং কেরলের পালাক্কড় জেলার বাসিন্দা। তিনি ২০০৮ সালে ইয়েমেনে চলে যান এবং একটি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে তাঁর স্বামী ও ১১ বছরের মেয়ে ভারতে ফিরে এলেও, তিনি সেখানে থেকে যান। তাঁর স্বপ্ন ছিল নিজের ক্লিনিক খোলা, এবং ২০১৫ সালে মাহদির সাথে যোগাযোগ করে একটি ক্লিনিকও খোলেন। কিন্তু পরে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয় এবং মাহদি অভিযোগ করেছিলেন যে, নিমিশা তাঁর পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়েছেন। একাধিকবার পুলিশকে জানানোর পরেও কোনো ফল মেলেনি।২০১৭ সালের ২৫ জুলাই, নিমিশা মাহদিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন, যার ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। নিমিশার দাবি ছিল, পাসপোর্ট পুনরুদ্ধার করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু অতিরিক্ত ডোজে মাহদি মারা যান। এর পর, তিনি মাহদির দেহকে টুকরো টুকরো করে জলের ট্যাঙ্কে ফেলেন। এরপরই তাঁকে ইয়েমেনের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এ বিষয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে এবং নার্সের পরিবারও নানা ভাবে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালে, নিমিশা দোষী সাব্যস্ত হন, এবং গত বছর তাঁর সাজা মকুবের জন্য করা শেষ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার বলেন, ‘‘ভারত সরকার পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। নিমিশার পরিবার নানা উপায়ে সাহায্য পেয়েছে এবং সরকার যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছে।’’