ব্যুরো নিউজ,১৭ ফেব্রুয়ারি :বেশ কিছু দিন ধরে পায়ের পাতায় জোর পাচ্ছেন না? পায়ের আঙুলগুলো কিছুটা অবশ হয়ে যাচ্ছে? ডায়াবিটিসও অনেকদিন ধরে রয়েছে? এবং রক্তচাপের সমস্যা কিছুটা বেড়ে গেছে? তবে, আগে কখনও এমন সমস্যা অনুভব করেননি। অনেকেই মনে করেন, হয়তো শোয়ার অবস্থান ঠিক না থাকার কারণে শরীরের এক দিকে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, পায়ের পাতা বা আঙুলের অবশ হয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা।
পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসঃ কেমন থাকবে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া?
পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি
প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে যদি ডায়াবিটিস থাকে, তবে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকার কারণে রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে হয় না এবং পায়ের স্নায়ুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে পায়ে চাপ না পড়লেও পায়ের পাতায় অনুভূতি চলে যেতে পারে এবং কখনও কখনও ঝিঁঝি ধরে।দ্বিতীয়ত, যদি শরীরে ভিটামিন B12-এর অভাব থাকে, তাহলে এমন সমস্যা হতে পারে। শরীরে ভিটামিন B12-এর অভাবে স্নায়ুগুলির কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং পায়ের পাতায় দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। অনেক সময়, চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি পা সঠিকভাবে কাজ না করে বা টাল সামলাতে না পারেন, তবে এটি ভিটামিন B12-এর অভাবের কারণে হতে পারে।
এছাড়া, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) একটি গুরুতর অটোইমিউন রোগ যা স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রোগে স্নায়ুর চারপাশের মায়োলিন শিথের আস্তরণ নষ্ট হয়ে যায় এবং স্নায়ু কাজ করা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে।পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজও (PAD) একটি গুরুতর সমস্যা, যা পায়ের রক্ত চলাচল ব্যাহত করে। যদি ধমনী দিয়ে রক্ত চলাচল রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে পা অবশ হতে পারে। এই সমস্যা কখনও কখনও স্ট্রোকের কারণে হয়, কারণ স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বিঘ্নিত হয়ে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে সিগন্যাল পাঠাতে পারে না।
সূর্যদেবের কুম্ভ রাশিতে আগমনঃ নতুন সুযোগ ও সাফল্যের আশার বার্তা কোন কোন রাশির জন্য জানুন
আরেকটি সমস্যা হলো সায়াটিকা। কোমর বা পায়ের পিছন থেকে তীব্র ব্যথা নেমে আসলে এবং পা অবশ হয়ে গেলে, এটি সায়াটিক স্নায়ুর উপর চাপ বা আঘাতের ফল হতে পারে। সায়াটিকার সমস্যা সাধারণত কোমরের নিচের অংশে এবং পায়ের পিছনের দিকের স্নায়ুতে সমস্যা সৃষ্টি করে, যা পায়ে অবশ এবং ব্যথার কারণ হয়।এইসব সমস্যাগুলির মধ্যে যদি কোনও একটি লক্ষণ আপনি অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার প্রভাব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, তাই আগেই সতর্ক থাকা জরুরি।