বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন

ব্যুরো নিউজ,১ জানুয়ারি:বাংলাদেশের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। নতুন বছরে শুরু হওয়া এই পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে ইতিহাস এবং সাহিত্যের মধ্যে লক্ষ্যণীয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজন এবং পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে বেশ আলাদা মনে হবে। সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি পুনর্বিবেচিত হয়েছে এবং নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে।আগে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জানতো যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এখন পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংস্করণের মতে, ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, পরে ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানও একই ঘোষণা দেন। এই পরিবর্তনগুলি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং তার পরবর্তী ঘটনাবলীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ যুগের বাবা ভাঙ্গা নিকোলাসের ২০২৫ নিয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

দৃষ্টিভঙ্গি আরও সুস্পষ্ট হবে

বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ‘পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা’ শীর্ষক লেখায় পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকেও করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও সুস্পষ্ট হবে।নতুন পাঠ্যবইয়ে মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পাশাপাশি, মেজর জিয়াউর রহমানের ছবি স্থান পেয়েছে। এছাড়া, পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক অধ্যায়ে মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য নেতাদের ছবির পাশাপাশি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ছবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগের বইয়ে শুধুমাত্র মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য নেতাদের ছবি ছিল, কিন্তু নতুন সংস্করণে ভাসানীর ছবিটিও আগে স্থান পেয়েছে।এছাড়া, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক প্রবন্ধে আবু সাঈদ এবং মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ছবি-সহ গণ অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে লেখা সংযোজন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের চলমান ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছিলেন আবু সাঈদ ও মুগ্ধ, যা পরবর্তী সময়ে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে।

মেলবোর্নে হেরেও ভারতীয় ক্রিকেটারদের সম্মানঃ বুমরাহ এবং নীতীশ কুমারের ‘অনার বোর্ডে’ নাম

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম রিয়াজুল হাসান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পরে এই বিষয়ে পাঠ্যবইয়ে সংযোজন একটি গণদাবি ছিল। ইতিহাসের বইয়ের বদলে বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে এটি সংযোজন করা হয়েছে। একইভাবে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য নেতাদের অবহেলার পরিবর্তে তাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তনগুলি শিক্ষার্থীদের ইতিহাসের সঠিক এবং সমৃদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের নানা দিককে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর