ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মে ২০২৬ঃ ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সম্প্রতি বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে আখ্যা দিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার একটি মামলার শুনানিতে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দ্রুত সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। প্রধান বিচারপতি বলেন, সমাজে ইতিমধ্যেই এমন ‘পরজীবী’ রয়েছে যারা দেশের ব্যবস্থা ও মানুষকে আক্রমণ করে, এবং বেকার যুবকদের একাংশ কর্মসংস্থান না পেয়ে ‘মিডিয়া’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বা ‘আরটিআই কর্মী’ হয়ে এই ‘ব্যবস্থাকে’ আক্রমণ করা শুরু করে।
তাঁর এই মন্তব্য দেশের বেকারত্ব এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। দিল্লি হাইকোর্টে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদমর্যাদা চেয়ে এক আইনজীবীর করা পিটিশনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। পিটিশনারের পেশাগত আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তার মতো ব্যক্তি সিনিয়র অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য নন। বেঞ্চ পিটিশনটিকে ‘তুচ্ছ’ আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দেয়।
একই সঙ্গে, প্রধান বিচারপতি দিল্লিতে বহু ভুয়ো এলএলবি ডিগ্রির অস্তিত্ব নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কারণ তাদের ভোটের প্রয়োজন। তাই এই ভুয়ো ডিগ্রিগুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, হাজার হাজার ভুয়া আইনজীবী কালো পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রধান বিচারপতির এই কড়া মন্তব্য বিচার বিভাগ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা বেকারত্ব এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।










