ব্যুরো নিউজ, ১৫ই মে ২০২৬ঃ পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মঙ্গলবার তাঁকে কলকাতার বিশেষ আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ১৯(১) ধারা অনুযায়ী গত ১১ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির বিনিময়ে প্রাক্তন মন্ত্রী একাধিক ফ্ল্যাট এবং কোটি কোটি টাকা নগদ সংগ্রহ করেছেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যবসায় খাটানো হয়েছে। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছিল। ইডি মনে করছে, সুজিত বসু এই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী। তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেড’-কে ওএমআর শিট এবং প্রশ্নপত্র ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই জালিয়াতি করে অযোগ্য প্রার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হতো। মজদুর, ঝাড়ুদার থেকে ক্লার্ক, সব স্তরের নিয়োগেই টাকার খেলা চলেছিল।
ইডির অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী তদন্তে সহযোগিতা করেননি এবং তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি ছিল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের পর থেকে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি শাসক শিবিরকে চাপে ফেলেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করা হলেও, আগামী ১০ দিন ইডি হেফাজতে থেকে সুজিত বসু কোন নতুন তথ্য দেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।










