আমেরিকার লালকাঠের ভবিষ্যৎ

ব্যুরো নিউজ ২ নভেম্বর : আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে লালকাঠের জঙ্গলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীদের একটি দল। এই গবেষণার রিপোর্ট হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া হবে। এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলার হুগলি জেলার চণ্ডীতলা থানার বাকসার বাসিন্দা শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই প্রকল্পের আওতায় ‘কোস্ট রেডউড’ বা বাংলায় ‘লালকাঠ’ নিয়ে কাজ করছেন।

আর জি করের নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবিতে জুনিয়র ডাক্তারদের দৃঢ় অবস্থানঃ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি

‘সেভ দ্য রেডউড’ প্রকল্পের নেতৃত্বাধীনে রয়েছে শুভম

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কলোরাডো ও অরেগন পর্যন্ত বিস্তৃত এই লালকাঠের জঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোর একটি। তবে, বর্তমানে এই লালকাঠ বিপন্ন হয়ে পড়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক কারণ এবং বৃক্ষচ্ছেদ।আমেরিকার সরকার লালকাঠের এই বিপর্যয় রোধে কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন’ নিয়েছে ‘সেভ দ্য রেডউড’ প্রকল্প, যেখানে শুভম গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লালকাঠের গাছের উচ্চতা ৩৮০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে, এবং কিছু গাছের গুঁড়ি ১০০ ফুট লম্বা। শুভম জানিয়েছেন, এই গাছগুলো ২০০০ বছরের বেশি পুরনো এবং ঝড়-আগুন সহ্য করে টিকে থাকে।শুভম বলেন, “প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের জলবায়ু কারণে এখানে প্রচুর বজ্রপাত ঘটে। লালকাঠের গাছের ট্যানিন বেশি থাকায় বজ্রপাতে গাছের উপরের অংশ পুড়লেও মূল অংশ নিরাপদ থাকে।তিনি আরও জানান, লালকাঠের জঙ্গল বিশ্বসেরা ‘হেরিটেজ সাইট’। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ এটি বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। লালকাঠের বাণিজ্যিক মূল্যও অনেক। আসবাবপত্র তৈরিতে এই কাঠ ব্যবহৃত হয়। শুভমের গবেষণা মূলত লালকাঠের ভবিষ্যৎ বিস্তার সম্পর্কে গাণিতিক মডেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তার দলে রয়েছেন মার্কিন গবেষক কলিন মাস্টসহ আরও কয়েকজন।

আপনার স্মার্টফোন কি হ্যাং করছে? এই টিপস গুলি মানলেই হবে সমস্যার সমাধান

শুভমের পরিচয়

শুভমের শিক্ষার পথচলা শুরু হয়েছে বাংলা মাধ্যম থেকে। তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন বাকসা বিএমএন বিদ্যালয় থেকে, তারপর উত্তরপাড়া রাজা প্যারিমোহন কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যায় অনার্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে এমএসসি করেছেন। এরপর তিনি কলকাতায় আইআইএসইআর থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।আইআইএসইআর থেকে পিএইচডি করার পর শুভম আমেরিকায় চলে যান এবং নাসার একটি প্রকল্পে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে লালকাঠ নিয়ে গবেষণা করছেন। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে তিনি গবেষণার অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দেবেন।

 

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর