ব্যুরো নিউজ,২৬ অক্টোবর, বিশ্বজিত মুখোপাধ্যায়:নভেম্বরে রাজ্যের ছয়টি বিধানসভা উপনির্বাচনের সব কয়টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ছয়টি আসনেই তৃণমূল প্রাথীরা জয়ী হবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি জানান। উপনির্বাচনের জয়ের ব্যাপারে শাসকদল এত গুরুত্ব দিচ্ছে কেন ? এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।আর জি কর মেডিকেল কলেজে অভয়া কান্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে সরকারের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা । ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি ধর্ম মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমে সরকার বিরোধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন চিকিৎসকরা
উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা মানব শৃঙ্খল তৈরি করে নাগরিক সমাজ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। ফলে রাজ্যের এক বিপুল সংখ্যক মানুষ সরকারের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মত পোষণ করেন। তাই আগামী দিনে নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে সরকার বিরোধী ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন । সেই কারণে উপনির্বাচনের সব কয়টি আসনে জিতে রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে বলে শাসকদলের নেতারা সর্বস্তরে একটি বার্তা দিতে চাইছেন । তাছাড়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ বর্তমান সরকার রাজ্যের মানুষের জনসমর্থন হারিয়েছে। বিগত নির্বাচনের ন্যায় এবারের ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে বাজিমাত করতে চাইছে শাসকদল। অন্যদিকে নাগরিক সমাজের অভিযোগ চিকিৎসকদের আন্দোলনের ঢেউ যাতে রাজ্যের অন্যান্য জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তাই কাগজ কলমে আন্দোলন কারীদের দশ দফা দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকে ভোঁতা করে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটাই মমতার রাজনৈতিক কৌশল। অন্যদিকে আন্দোলনের গতি শ্লথ করার কৌশল আঁচ করে চিকিৎসকরা ফের দ্বিতীয় পর্যায়ে আন্দোলনের রুপরেখা তৈরি করেছেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যে নতুন করে ছয় দফা দাবি নিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন চিকিৎসকরা ।
আরজি কর কাণ্ডঃ ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ বলার প্রতিবাদে আইনি নোটিশ
উপ নির্বাচনের পাশাপাশি রাজ্যে ২৬শে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রওয়ারি আলোচনা শুরু করেছেন তৃণমূল সহ রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা । তাছাড়া ডাক্তারদের বিক্ষোভ ভবিষ্যতে গণ আন্দোলনের রুপ নিলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নবান্নে ক্ষমতায় ফেরা তৃণমূলের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে তৃণমূল দলের নেতারা আড়ালে -আবডালে স্বীকার করছেন। তদুপরি দলের অভ্যন্তরে কোন্দল লেগেই রয়েছে। অনেক তৃনমূল নেতা গোপনে বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিকভাবে দল অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়তে পারে বলে তৃণমূল নেতাদের একাংশের অনুমান। এ ধরণের পরিস্থিতি অনুধাবন করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগাম দিনে কিভাবে তা মোকাবিলা করেন সেটাই দেখার।




















