দেবে

ব্যুরো নিউজ, ২২ ডিসেম্বর: দেবের গলায় বিদায়ের সুর

নানা ঘটনায় দলের সঙ্গে ছোটখাটো মনোমালিন্য আগে হোলেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সেসব মিটে গিয়েছিল দ্রুত, কিন্তু অসুবিধা তার নিজস্ব কম নয়। কখনও পরিচালক, কখনও অভিনেতা, আবার কখনও বাবা মায়ের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া স্টার অভিনেতা। তাই এবার কি তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাইছেন? একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন এবার একজন ফুলটাইম সাংসদ চাই। বক্তা, অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। অকপটে তিনি বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ওই আসনে সাংসদ হিসাবে টিকিট দিয়েছিলেন। পরপর ২ বার তিনি ওই আসন থেকে জয়ী হন। তবে এবার স্বীকার করলেন কাজের চাপে তিনি আর তার লোকসভা কেন্দ্রে সময় দিতে পারছেন না। ওই আসনে তার জায়গায় একজন পূর্ণ সময়ের সাংসদ দিলেই ভাল হয়। গত ১০ বছরে তিনি ওই কেন্দ্রে যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি। তাই অনেক কাজও করা যায়নি। সেই সঙ্গে তাঁর ফ্লিম সংক্রান্ত কাজের চাপও বাড়ছে ফলে একজন অন্যসময়ের সাংসদ কাউকে করা হলে তিনি অনেক সময় দিতে পারবেন। কাজের চাপের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না।

ভিক্ষে করতে এসে সোনা নিয়ে চম্পট! তবে শেষ রক্ষা হল না 

দেবের এমন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে অনেক প্রশ্ন রেখেগেল। অনেকেই বলছেন দেব রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চাইছেন। কারণ, রাজনীতির ময়দানে কাঁদা ছোড়াছুড়ি আর অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ তাঁর না পসন্দ। তাঁর সম্মানের জন্যও কিছুটা বেমানানও। আবার কেউ বলছেন, দেব এবার আরও বেশি মনোযোগ দিতে চাইছেন ছবি পরিচালনার কাজে। তৃণমূল শিবিরের একাংশের অভিমত, দেব আসলে দোলাচলে ভুগছেন। ২০২৪ এ আবার টিকিট পেলে দাঁড়াবেন? নাকি নিজের পুরনো পেশায় পূর্ণ সময় দেবেন? দেব অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন যে তৃতীয়বারের জন্য লোকসভায় তিনি দাঁড়াবেন কি না তা নিয়ে তিনি ভাবছেন না। বাস্তবিক ভাবার মতো সময়ও তাঁর নেই। দেব ২০১৪ সালে প্রথম সাংসদ হওয়ার পর তাঁর কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য বেশকিছু প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ২০১৯ সালে করোনা কালে তাঁকে ওই কেন্দ্রে উন্নয়নের কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, এই সামান্য সময় একজন সাংসদ হিসাবে দিলে উন্নয়নের কাজ সত্যি সেভাবে সম্ভব নয় বলেই তাঁর ধারণা। তৃণমূলের বাকি ২ সাংসদ চিত্রতারকা মিমি চক্রবর্তী ও নুসরৎ জাহানের তুলনায় দেব অবশ্য অনেকটা সক্রিয়। কারণ, যাদবপুরে মিমির বা বসিরহাটে নুসরৎকে সাংসদ হিসাবে গত ৫ বছরে তেমন সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে সাধারণ মানুষেরা অভিযোগ করেছেন। সেই তুলনায় দেব তাঁর কেন্দ্রে অনেকটাই মাটির কাছাকাছি ছিলেন। তিনি অবশ্য মনে করেন যে, যতটা সম্ভব মানুষের প্রয়োজনে পাসে দাড়াতে পেরেছেন। তবে দেবের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই কলকাতার দক্ষিণ তল্লাটে এক বিধায়কের সঙ্গে কিছুটা ঠাণ্ডা লড়াই ছিল। সেই পুরনো ঘটনাই কি দেবকে এবার উদাসীন করে দিল? চলচ্ছিত্র জগতে রীতিমতো আবির্ভাবের সময় থেকেই টিনেজারদের হার্টথ্রব দেব কেনই বা রাজনীতিতে নামলেন, আবার কেনই বা আর বিদায়ের সুর বাজাচ্ছেন তা সত্যি রাজনিতিক ও রাজনৈতিক দলগুলির ‘পুরনো পাপীদের’ বোধগম্য হয়নি। কিন্তু, দেবের মতো সহজ-সরল ও স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের রাজনীতিতে দরকার বলেই ভদ্রলোকেরা মনে করেন। কিন্তু, তাতে কি যায় আসে? রাজনীতি তো চলে তার আপন ধারায়। বোমা-বন্দুক-হুমকি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি? সেটা ভাবা যায় নাকি? ইভিএম নিউজ

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর