চলতি মাসে সভাপতির দায়িত্বে থাকা গ্রিসের জাতিসংঘ মিশনের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো বৈঠকের জন্য কোনো অনুরোধ করা হয়নি।মিশন বুধবার রাতে জানিয়েছে, “সোমবারের বন্ধ পরামর্শ সভার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বৈঠকের জন্য অনুরোধ পাওয়া যায়নি।” পাকিস্তান বা নিরাপত্তা পরিষদের অন্য ১৪ সদস্যের কেউই কোনো বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেনি।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদকে জিজ্ঞেস করা হলে, পাকিস্তান নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করতে চায় কি না, তিনি রহস্যজনকভাবে বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
সোমবার নিরাপত্তা পরিষদ দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে একটি বন্ধ কক্ষে পরামর্শ সভা করেছে, যেখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি-জেনারেল মোহামেদ খালেদ খিয়ারি ব্রিফিং দেন।
ভারত বরাবরই এই অবস্থান নিয়ে এসেছে যে, এই ধরনের বিষয় ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির আওতায় দ্বিপাক্ষিক এবং সে কারণে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ অনুচিত।
যদিও আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে, তথাপি নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনো অধিবেশন আপাতত কেবলমাত্র আলোচনা পরিসর হিসেবেই থাকবে, কারণ স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে কার্যকর বা বাস্তবায়নযোগ্য কোনো প্রস্তাব গ্রহণ সম্ভব নয়।
এর আগে, ৬ মে তারিখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে তীব্র প্রশ্নের মুখে ফেলে এবং কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হন।
সদস্য দেশগুলো ইসলামাবাদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে এবং পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে।
যদিও পাকিস্তান দাবি করেছে যে বৈঠকটি তাদের কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করেছে, রিপোর্টগুলো দেখায় যে সভাটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
এই বৈঠকটি পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদের অনুরোধে ডাকা হয়েছিল, যেখানে তিনি দাবি করেন যে, তাঁর দেশ পাহেলগামের সন্ত্রাসী হামলায় কোনোভাবে জড়িত নয়।
যদিও বৈঠকটি একটি বন্ধ পরামর্শ সভা ছিল এবং এর কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
সোমবারের সভার পর নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি এভাঞ্জেলোস সেকেরিস সাংবাদিকদের বলেন, “এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে নিরাপত্তা পরিষদ সবসময়ই সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি পরিষদের দায়িত্ব। বৈঠকটি ফলপ্রসূ এবং সহায়ক ছিল। যেহেতু এটি একটি বন্ধ পরামর্শ সভা, তাই এর কার্যক্রম গোপন এবং আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, পরিস্থিতি এখন “boiling point” পর্যায়ে রয়েছে এবং তিনি উভয় দেশকে “step back from the brink” আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “এই সংকটময় মুহূর্তে একটি সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
গত মাসে পাহেলগামে ২৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা সন্ত্রাসী হামলাটিকে তিনি “তীব্রভাবে” নিন্দা করেন এবং বলেন, “এই ভয়াবহ হামলার পর মানুষের মধ্যে যে তীব্র আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা আমি বুঝতে পারি।”




















