ব্যুরো নিউজ, ১২ই জানুয়ারী ২০২৬ : প্রতি বছর ১২ই জানুয়ারী গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে স্বামী বিবেকানন্দ জয়ন্তী পালিত হয়। তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক নেতা ও চিন্তাবিদ। এই পবিত্র দিনটির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় গুরুত্ব অপরিসীম। সনাতন ধর্ম ও বেদান্ত দর্শনের মশালবাহক হিসেবে পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর শৃঙ্খলা, শক্তি, দেশপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের শিক্ষায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
১৮৬৩ সালে কলকাতার নরেন্দ্রনাথ দত্ত হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের একজন প্রধান শিষ্য ছিলেন এবং পাশ্চাত্য বিশ্বে বেদান্ত ও যোগের ভারতীয় দর্শন প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
KaalBhairav Shiva : কাশীর কোতোয়াল: বাবা কাল ভৈরবের অসীম মহিমা ও ভৈরবাষ্টকম্-এর শক্তি
শিকাগো ধর্ম মহাসভা এবং বিশ্ব পরিচিতি
১৮৯৩ সালে শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতার পর স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর উদ্বোধনী শব্দ, “আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ,” তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন এনে দিয়েছিল। সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং আধ্যাত্মিক মানবতাবাদের তাঁর বার্তা বিভিন্ন সংস্কৃতি জুড়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল।
জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন
স্বামী বিবেকানন্দ জয়ন্তীকে ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসেবেও পালন করা হয়, যা যুবকদের ক্ষমতায়ন, চরিত্র গঠন এবং আত্মবিশ্বাসের উপর তাঁর জোরকে তুলে ধরে। স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন যে একটি জাতির শক্তি তার তরুণদের মধ্যে নিহিত এবং তিনি তাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক মেজাজ ও সামাজিক দায়িত্বের সাথে একত্রিত করতে উৎসাহিত করেছিলেন।
ভারত সরকার ১৯৮৪ সাল থেকে স্বামী বিবেকানন্দের যুবকদের উন্নয়নে অমূল্য অবদানের স্মরণে ১২ই জানুয়ারীকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
শিক্ষার চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা
স্বামী বিবেকানন্দ জয়ন্তী সাহস, সেবা এবং ঐক্যের উপর তাঁর দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষার স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁর ধারণাগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে, ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিক শক্তি, জাতীয় গর্ব এবং বিশ্বব্যাপী ঐক্যের দিকে পরিচালিত করছে। তিনি মানবতাকে সহানুভূতি নিয়ে সেবা করতে এবং অগ্রগতির জন্য সচেষ্ট থাকার সময় নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত থাকতে শিখিয়েছিলেন। এই শিক্ষাগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষকে সাহস, স্পষ্ট চিন্তা, ভক্তি এবং আত্মবিশ্বাসের পথে ক্রমাগত নির্দেশনা দিয়ে চলেছে।
যুব সমাজের জন্য অমূল্য বাণী
২০২৬ সালের জাতীয় যুব দিবস স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী ১২ই জানুয়ারী চিহ্নিত করবে। তরুণ মনকে অনুপ্রাণিত করতে এখানে দশটি শক্তিশালী এবং কালজয়ী উক্তি রয়েছে যা ভারতের তরুণদের সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং উদ্দেশ্য নিয়ে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
Tulsi Pujan : ২৫শে ডিসেম্বর কেন তুলসী দিবস? ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়
স্বামী বিবেকানন্দের মূল্যবান চিন্তা
“ওঠো, জাগো, এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।”
“একটি ধারণা নাও। সেই একটি ধারণাকে তোমার জীবন তৈরি করো… এটিই সাফল্যের পথ।”
যুব সমাজের জন্য স্বামী বিবেকানন্দের মূল্যবান চিন্তা
“নিজেকে বিশ্বাস করো এবং ঈশ্বরকে বিশ্বাস করো, এটাই মহত্ত্বের রহস্য।”
“আমরা যা ভাবি তাই হয়ে যাই; তাই তুমি কী ভাবছো সেদিকে খেয়াল রাখো।”
“যেদিন তুমি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হও না, সেদিন তুমি নিশ্চিত হতে পারো যে তুমি ভুল পথে আছো।”
“ভয় পেও না, এগিয়ে যাও। শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু।”
“শিক্ষার লক্ষ্য শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়, চরিত্র গঠন এবং আত্মনির্ভরশীলতা।”
“তোমাকে ভেতর থেকে বেড়ে উঠতে হবে। কেউ তোমাকে শেখাতে পারে না; তোমার আত্মাই তোমার শিক্ষক।”
“আমাকে ১০০ জন যুবক দাও, আমি পৃথিবী বদলে দেব।”
“তোমরাই জাতির ভিত্তি, ভারতের ভবিষ্যৎ বহন করো।”



















