ব্যুরো নিউজ ২৯শে আগস্ট ২০২৫ : এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া ডিএ , দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপুজোয় ছুটি বাতিল, এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো –
বকেয়া ডিএ এবং অষ্টম পে কমিশন
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে অষ্টম পে কমিশন (Eighth Pay Commission) চালু হওয়ার কথা, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এখনও ষষ্ঠ পে কমিশনেই আটকে আছে। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের নিষেধ সত্ত্বেও তিনি ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা, স্কুল শিক্ষক সহ কেউ-ই রাজ্য সরকারের উপর সন্তুষ্ট নয় এবং তিনি সরাসরি নবান্ন থেকে এই খবর পান।
পুজোর ছুটি বাতিল
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের পুজোর ছুটি এবং লক্ষ্মীপুজোর ছুটি বাতিল করে দিয়েছে। তিনি জানান, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির কাজ ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও, রাজ্য সরকার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। তার দাবি, এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মচারীরা খুশি নন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং আসন্ন বৃদ্ধি
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থ বৃদ্ধি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পে দেওয়া টাকা ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেবেন। তার মতে, আসন্ন ভোটকে মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার একবারে পুরো টাকা বাড়াবে না, বরং ধাপে ধাপে ১০০ বা ২০০ টাকা করে বাড়িয়ে ৫০০ টাকার কোটা পূরণ করবে।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি: পদত্যাগের দাবি
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৭ দিনের মধ্যে অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত আরও বলেছে যে ২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের জন্য আদালত নয়, রাজ্য সরকারই দায়ী। এই নির্দেশ পাওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা যাবেন কোথায়, যাওয়ার তো জায়গা নেই, ২ তারিখে কড়া নাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশিত হলে প্রমাণ হবে যে রাজ্য সরকার সংবিধানকে সামনে রেখে যে নিয়োগ করেছে তা আসলে অযোগ্য নিয়োগ, যা তারা করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, অযোগ্যদের নিয়োগের কারণ কী, তা তদন্তকারী সংস্থা খুঁজে বের করুক এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করুক।