ব্যুরো নিউজ, ১৩ই মে ২০২৬ঃ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন, কার পুলিং এবং বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পরই উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যে চালু করা হয়েছে ‘নো ভেহিকেল ডে’ বা ‘গাড়িমুক্ত দিবস’। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক-সহ সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা কনভয় ব্যবহার না করে বাধ্যতামূলকভাবে গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। তবে ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। প্রশাসন সাইকেল ব্যবহার এবং কার পুলিং ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন।
সরকারের নির্দেশ, সরকারি দপ্তরের অন্তত ৫০ শতাংশ মিটিং ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই তাঁর নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করেছেন এবং মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলাদের কনভয় ও সরকারি গাড়ির সংখ্যাও ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সম্প্রতি তাদের কনভয় গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।









