ব্যুরো নিউজ, ৯ই জানুয়ারী ২০২৬ : আইপ্যাক (I-PAC) দফতরে ইডির তল্লাশি এবং তাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের ঘটনায় এবার সরাসরি যুক্ত হলো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবারের সেই নজিরবিহীন ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ইডির কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্র। একদিকে যখন রাজপথে তৃণমূলের বিশাল পদযাত্রা চলছে, অন্যদিকে তখন আইনি লড়াইয়ের জল গড়াল দিল্লি পর্যন্ত।
ইডির কাছে রিপোর্ট তলব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক অফিস এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডির তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে কেন্দ্র। ইডির পাশাপাশি ওইদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ (CRPF)-ও ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব রিপোর্ট জমা দিয়েছে। মূলত কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কীভাবে ঘটেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানতে চেয়েছে মন্ত্রক।
হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত, মুখোমুখি তিন পক্ষ
শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পিটিশন তালিকাভুক্ত ছিল:
১. ইডির মামলা: মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার’ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থার পিটিশন।
২. আইপ্যাক-এর পালটা মামলা: সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের দায়ের করা পিটিশন, যেখানে তল্লাশির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
৩. তৃণমূলের আবেদন: দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গোপন তথ্য ও নির্বাচনী কৌশল চুরির চেষ্টা করছে।
কিন্তু এজলাসে ভিড় সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় বিচারপতি শুনানি পিছিয়ে দেন।
কলকাতার রাজপথে মমতার হুঙ্কার
শুক্রবার দুপুরেই দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত এক প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে পা মিলিয়ে তিনি দিল্লির ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “দিল্লিতে আমাদের সাংসদদের সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে তা নজিরবিহীন। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।” এর আগে তিনি ইডির বিরুদ্ধে নথিপত্র চুরির পালটা অভিযোগ তুলে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন।
দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের ধরনা ও আটক
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ‘অপব্যবহারের’ প্রতিবাদে আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে যান তৃণমূল সাংসদরা। সেখান থেকে ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায় ও কীর্তি আজাদ সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, “অমিত শাহের ইডি আসলে ‘এক্সটরশন ডিরেক্টরেট’ (তোলাবাজি বিভাগ), যারা রাজনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি করছে।”
TMC protest Delhi : আই-প্যাক অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদ; দিল্লিতে ধস্তাধস্তি ও আটক তৃণমূল সাংসদরা
আক্রমণাত্মক বিজেপি: “গণতন্ত্রের লজ্জা”
বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ আজ দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “স্বাধীন ভারতে এর আগে কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে তদন্তে বাধা দিতে দেখা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তা অসাংবিধানিক এবং অনৈতিক।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন।
রাজ্যপালের কড়া প্রতিক্রিয়া
বিজেপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানান, বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, “সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া বা ভয় দেখানো গুরুতর অপরাধ। কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধান অমান্য করেন, তবে তাঁর পদে থাকার অধিকার লুপ্ত হয় ।”



















