NARI 25 report cities woman safety

ব্যুরো নিউজ ২৯শে আগস্ট ২০২৫ : ভারতের বিভিন্ন শহরে নারীরা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ন্যাশনাল অ্যানুয়াল রিপোর্ট অ্যান্ড ইন্ডেক্স অন উইমেন’স সেফটি (NARI) 2025। এই প্রতিবেদনে ভারতের শহরগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার পরিস্থিতি এবং তাদের নিজস্ব উপলব্ধি তুলে ধরা হয়েছে।

নারীর নিরাপত্তা: NARI 2025-এর প্রধান ফলাফল

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি ৩১টি শহরের ১২,৭৭০ জন নারীর উপর করা একটি জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ভারতের শহরগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার গড় স্কোর ৬৫%। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে ৬০% নিজেদের শহরে নিরাপদ মনে করলেও, ৪০% নিজেদের “তেমন নিরাপদ নয়” অথবা “অনিরাপদ” মনে করেন। জাতীয় মহিলা কমিশনের (NCW) চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাতকার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, নিরাপত্তা কেবল আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় নয়, এটি একজন নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের সুযোগ এবং চলাফেরার স্বাধীনতার মতো জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে।

পর্ন-কাণ্ডে ‘ফুলটুসি’ শ্বেতা খান অবশেষে গ্রেফতার, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

নারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং অনিরাপদ শহরগুলির তালিকা

সবচেয়ে নিরাপদ শহর (Top 7 Safest Cities):

  • কোহিমা ( নাগাল্যান্ড )
  • বিশাখাপত্তনম ( অন্ধ্রপ্রদেশ )
  • ভুবনেশ্বর ( উড়িষ্যা )
  • আইজল ( মিজোরাম )
  • গ্যাংটক ( সিকিম )
  • ইটানগর ( অরুণাচল প্রদেশ )
  • মুম্বাই ( মহারাষ্ট্র )


সবচেয়ে অনিরাপদ শহর (Top 7 Unsafest Cities):

  • পাটনা ( বিহার )
  • জয়পুর ( রাজস্থান )
  • ফরিদাবাদ ( হরিয়ানা )
  • দিল্লি ( জাতীয় রাজধানী অঞ্চল )
  • কলকাতা ( পশ্চিমবঙ্গ )
  • শ্রীনগর ( কাশ্মীর )
  • রাঁচি ( ঝাড়খণ্ড )

রাতে ও গণপরিবহণে নিরাপত্তার অবনতি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাতের বেলায় নিরাপত্তার অনুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। নারীরা বিশেষত গণপরিবহণ এবং বিনোদনমূলক জায়গাগুলোতে রাতে নিজেদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়েছে। ৮৬% নারী জানিয়েছেন যে, দিনের বেলায় তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ বোধ করেন। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে বা রাতের বেলায় এই আত্মবিশ্বাস দ্রুত কমে যায়।

 

কর্মক্ষেত্র এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার অভাব

কর্মক্ষেত্রগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে ৯১% নারী নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। তবে তাদের প্রায় অর্ধেকই জানেন না যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ (POSH) সংক্রান্ত কোনো নীতি আছে কি না। NARI 2025-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীরা কর্তৃপক্ষের উপর কম আস্থা রাখেন। মাত্র চারজনের মধ্যে একজন নারী বলেছেন যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। ৬৯% উত্তরদাতা মনে করেন যে, বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা “মোটামুটি পর্যাপ্ত”, তবে ৩০%-এরও বেশি নারী বিদ্যমান ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি এবং ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন।

কসবা কলেজে গণধর্ষণ: ধৃত টিএমসিপি সদস্য, বিরোধী দলেনেতার নিশানায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ।

প্রকাশ্য স্থানে হয়রানি এবং তা গোপন রাখার প্রবণতা

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, ২০২৪ সালে ৭% নারী প্রকাশ্য স্থানে হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২৪ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যে এই সংখ্যা ১৪%। পাড়া-মহল্লা (৩৮%) এবং গণপরিবহণ (২৯%) হয়রানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে, মাত্র তিনজনের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী ঘটনাটি রিপোর্ট করতে এগিয়ে আসেন। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, কেবল সরকারি অপরাধের তথ্য দিয়ে নারীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। “তিনজনের মধ্যে দুজন নারী হয়রানির ঘটনা জানান না, অর্থাৎ NCRB-এর বেশিরভাগ ঘটনা অজানা থেকে যায়,” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবং NARI-এর মতো উপলব্ধি-ভিত্তিক জরিপের সঙ্গে অপরাধের তথ্যের একীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর