Ganeshji temples

ব্যুরো নিউজ, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে ভগবান গণেশ হলেন ‘বিঘ্নহর্তা’ এবং ‘সিদ্ধিদাতা’। যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে তাঁর আরাধনা করা আমাদের ঐতিহ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু প্রাচীন গণেশ মন্দির রয়েছে, যা কেবল তাদের ধর্মীয় গুরুত্বের জন্যই নয়, বরং অসাধারণ স্থাপত্য এবং শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের জন্যও বিখ্যাত। আজকের নিবন্ধে আমরা এমনই কিছু পবিত্র মন্দির নিয়ে আলোচনা করব।

১. সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির, মুম্বাই (মহারাষ্ট্র)

১৮০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের অন্যতম ধনীতম ও জনপ্রিয় মন্দির। একটি ছোট্ট উপাসনালয় হিসেবে শুরু হলেও আজ এটি ‘মনস্কামনা পূর্ণকারী’ মন্দির হিসেবে পরিচিত। সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সেলিব্রেটি—সকলের কাছেই সিদ্ধিবিনায়কের মাহাত্ম্য অপরিসীম।

২. উচি পিল্লাইয়ার মন্দির, ত্রিচি (তামিলনাড়ু)

সপ্তম শতাব্দীতে পল্লব যুগে নির্মিত এই মন্দিরটি ত্রিচির ‘রকফোর্ট’-এর চূড়ায় অবস্থিত। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত এই মন্দিরটি কেবল আধ্যাত্মিক শান্তিই দেয় না, বরং পুরো শহরের মনোরম দৃশ্যও উপহার দেয়। লোকগাথা অনুযায়ী, এই মন্দিরের সাথে ভগবান রাম এবং বিভীষণের কাহিনী জড়িত।

Ganeshji : গণেশ উপাখ্যান: বাধা মোচনের দেবতা ও তাঁর ঐশ্বরিক শিক্ষা

৩. ত্রিনেত্র গণেশ মন্দির, রণথম্ভোর (রাজস্থান)

রণথম্ভোর দুর্গের ভেতরে অবস্থিত এই মন্দিরটি ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা হাম্মির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখানে গণেশের এক অনন্য ‘তিন চক্ষু’ বিশিষ্ট মূর্তি পূজিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বিয়ের প্রথম আমন্ত্রণপত্রটি এখানেই পাঠিয়েছিলেন। আজও বহু ভক্ত তাঁদের বিয়ের প্রথম নিমন্ত্রণপত্র এখানে পাঠান।

৪. গণপতিপুলে মন্দির, রত্নাগিরি (মহারাষ্ট্র)

কোঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত ৪০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে গণেশের এক ‘স্বয়ম্ভু’ (প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট) মূর্তি রয়েছে। একে ভারতের ‘পশ্চিম দ্বার-দেবতা’ বা পশ্চিম দিকের রক্ষাকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। সমুদ্রের তীরে অবস্থিত হওয়ায় এই মন্দিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়।

৫. কার্পাকা বিনায়ক মন্দির, পিল্লাইয়ারপট্টি (তামিলনাড়ু)

প্রায় ১৬০০ বছরের পুরনো এই পাহাড়-কাটা গুহা মন্দিরটি ভারতের প্রাচীনতম গণেশ মন্দিরগুলোর মধ্যে একটি। কালো পাথরের ওপর খোদাই করা গণেশের সূক্ষ্ম কারুকার্যময় মূর্তিটি প্রাচীন ভারতের শিল্পকলার এক অনন্য নিদর্শন। এটি তামিলনাড়ুর ভক্তি ও ঐতিহ্যের এক প্রধান কেন্দ্র।

৬. চিন্তামণি মন্দির, থেউর (মহারাষ্ট্র)

অষ্টবিনায়ক তীর্থযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো এই চিন্তামণি মন্দির। যদিও বর্তমান কাঠামোটি ১৬-১৭ শতাব্দীর, তবে এই তীর্থের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মানসিক শান্তি লাভ এবং দুশ্চিন্তা মুক্তির আশায় ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন।

Ganeshji : সিদ্ধিদাতা গণেশের চার হাতের রহস্য !

৭. শশিবেকালু গণেশ মন্দির, হাম্পি (কর্ণাটক)

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মন্দিরটি। এখানে একটি মাত্র বিশাল পাথর খোদাই করে গণেশের এক বিশালাকার মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। হাম্পির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এই মন্দিরটি আজও পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের আকর্ষণ করে।

উপসংহার

ভারতের এই মন্দিরগুলো কেবল পাথরের কাঠামো নয়, বরং এগুলি হাজার বছরের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ভক্তির ধারক। আপনি যদি আধ্যাত্মিক শান্তি এবং ইতিহাসের স্বাদ একসাথে পেতে চান, তবে জীবনের কোনো এক সময়ে এই জাগ্রত তীর্থগুলো দর্শন করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর