ব্যুরো নিউজ,২৯ মার্চ : ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যু হলেও তার সন্তানেরা ব্যস্ত ছিলেন সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা ধরে বাড়ির উঠোনেই পড়ে ছিল মৃতদেহ। শেষ পর্যন্ত, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে দাফন সম্পন্ন হয়।ঘটনা ঘাটে বাংলাদেশের যশোরে।এটি একটি অমানবিক ঘটনা।
মৃত্যুর পরও শান্তি মেলেনি বৃদ্ধের
প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে মৃত্যু হয় হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত তার মৃতদেহ বাড়ির উঠোনেই পড়ে ছিল। কারণ, সন্তানেরা শেষকৃত্য সম্পন্ন না করে সম্পত্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের চারজন স্ত্রী ও নয়জন সন্তান রয়েছে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিনগুলো ছোট স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে সোহেল বিশ্বাসের সঙ্গে যশোরের কোটা গ্রামে কাটাতেন। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি এবং মৃত্যুর আগেই ছোট স্ত্রীর নামে ৮৩ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তার অন্য স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা।সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েকবার গ্রাম্য সভাও হয়েছে, কিন্তু কেউই সমাধানে আসতে রাজি হননি। এমনকি বাবার মৃত্যুর পরও পরিবারের সদস্যরা সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ঝগড়া চালিয়ে যান এবং দাফনে বাধা দেন।
বছরের সবথেকে বড় রাশি পরিবর্তন! ঘর ছাড়ছেন শনিদেব, চকমকে ভাগ্য ফিরে পাবেন এই ৫ রাশির জাতক জাতিকারা
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শর্ত মেনে নিতে হয়,মৃতের ছোট ছেলে সোহেল বিশ্বাস জানান, তার সৎ ভাইয়েরা বাবার কবর খুঁড়তে পর্যন্ত দেয়নি। তারা দাবি করে, যদি ৮৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৫০ শতাংশ তাদের নামে লিখে দেওয়া হয়, তাহলে দাফন করতে দেওয়া হবে। অবশেষে, শর্ত মেনে মুচলেকা দেওয়ার পরই বাবার দাফন সম্ভব হয়।সোহেল বিশ্বাস বলেন, “মৃত্যুর ১৬ ঘণ্টা পর বাবার দাফন করতে হয়েছে। এত অমানবিক আচরণ আমি কল্পনাও করিনি। ঈশ্বর তাদের বিচার করবেন।”
এই ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মৃত্যুর পরেও শান্তি পাননি হাবিবুর রহমান বিশ্বাস। পরিবারে সম্পত্তির লোভ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ।