ব্যুরো নিউজ,৩ এপ্রিল: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে। বিএনপি এবার সরাসরি নাম না করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নবগঠিত দল এনসিপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দলটির শীর্ষ নেতা ফজলুর রহমান বলেছেন, “যারা তিনটি আসনেও জিততে পারবে না, তারা এখন এমনভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করছে যেন পুরো ৩০০ আসন তাদের দখলে!” বিশ্লেষকদের মতে, ফজলুরের এই বক্তব্যের মূল নিশানা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং এনসিপি নেতারা। এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির কিছু নেতার যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংঘাতের পারদ চড়তে শুরু করেছে।
দ্রুত নির্বাচন চাই, নয়তো অস্থিরতা অনিবার্য
গত ২৫ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনূস জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে এই ঘোষণা বিএনপিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই বছরই আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার চাই। যদি সময়মতো নির্বাচন না হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেবে, যা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।”
Bangladesh: চীনের জালে বাংলাদেশীরা, চীনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাংলাদেশীরা পড়লেন বিরাট সমস্যায়!
গত বছর থেকেই নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি সরব রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিসেম্বরেই বলেছিলেন, “ভোটের অধিকার, ন্যায়বিচার ও জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদার দাবিতে আমাদের আবারও রাস্তায় নামতে হবে।” তারেক রহমানও একই সুরে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে।
এদিকে, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘প্রয়োজনীয় সময়’ দেওয়া উচিত, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়। তবে বিএনপি এটাকে সরকারের চাল বলে মনে করছে এবং সরাসরি নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক টানাপড়েন যতই বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, আগামী নির্বাচন ঘিরে সংঘাত অনিবার্য। এখন দেখার বিষয়, সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো সুযোগ তৈরি হয় কি না, নাকি বাংলাদেশ আরও বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।