jai hanuman astro

ব্যুরো নিউজ, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : গোস্বামী তুলসীদাস রচিত ‘হনুমান চালিশা’ কেবল একটি ভক্তিমূলক স্তোত্র নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক কবচ। মহাবীর হনুমানকে বলা হয় ‘অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির দাতা’। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, নিয়মিত ভক্তিভরে হনুমান চালিশা পাঠ করলে কুণ্ডলীর অশুভ গ্রহের প্রভাব খণ্ডিত হয় এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে।

নিচে হনুমান চালিশা পাঠের ১০টি বিশেষ জ্যোতিষতাত্ত্বিক উপকারিতা আলোচনা করা হলো:

১. শনি দোষ থেকে মুক্তি

জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলের দেবতা বলা হয়। কিন্তু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শনিদেব স্বয়ং বজরংবলীকে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁর ভক্তদের তিনি কখনও কষ্ট দেবেন না। তাই সাড়ে সাতি বা শনির ঢাইয়া চললে হনুমান চালিশা পাঠ করলে ভয়, বিলম্ব এবং জীবনের কঠোর সংগ্রাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Hanumanji : ভয় আর যন্ত্রণা কি পিছু ছাড়ছে না? জানুন হনুমান চালিশার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী চৌপাইয়ের মাহাত্ম্য

২. অশুভ গ্রহের কুপ্রভাব থেকে সুরক্ষা

রাহু ও কেতুর মতো ছায়া গ্রহ যখন জন্মছকে অশুভ অবস্থানে থাকে, তখন জীবনে আকস্মিক দুর্ঘটনা বা মানসিক অশান্তি নেমে আসে। জ্যোতিষীদের মতে, হনুমান চালিশা পাঠকারীর চারপাশে একটি শক্তিশালী আভা বা ‘সুরক্ষা বলয়’ তৈরি করে, যা এই অশুভ প্রভাবগুলিকে প্রতিহত করে।

৩. মঙ্গল দোষ খণ্ডন

হনুমানজি স্বয়ং মঙ্গলের কারক দেবতা। যাদের জন্মছকে মঙ্গল দুর্বল বা ‘মাঙ্গলিক দোষ’ রয়েছে, তাদের জীবনে বিবাহ বা পারিবারিক ক্ষেত্রে অশান্তি দেখা দেয়। নিয়মিত চালিশা পাঠ করলে মঙ্গলের উগ্রতা হ্রাস পায় এবং জীবনে ভারসাম্য ফিরে আসে।

৪. ভয় ও দুশ্চিন্তা নিরসন

“ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ, মহাবীর জব নাম সুনাবৈ”—এই চরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, হনুমান চালিশার ছন্দোবদ্ধ সুর মনের গভীর থেকে ভয় ও উদ্বেগ দূর করে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং মানসিক শান্তি প্রদান করে।

৫. রাহু-কেতুর দশা ও অন্তর্দশার প্রভাব হ্রাস

রাহু বা কেতুর মহাদশা চলাকালীন মানুষের বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়। হনুমান চালিশা পাঠ করলে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং এই কঠিন সময়ে ভক্ত সঠিক পথ খুঁজে পায়। এটি আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে রাহুর নেতিবাচক মায়া কাটিয়ে দেয়।

৬. ইচ্ছাশক্তি ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি

আলস্য মানুষের উন্নতির পথে বড় বাধা। হনুমান চালিশা পাঠ করলে শরীরের শক্তি ও মনের তেজ বৃদ্ধি পায়। এটি সূর্য এবং মঙ্গলের শক্তিকে জাগ্রত করে, যার ফলে ব্যক্তি আত্মপ্রেম এবং কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যেতে পারে।

৭. কর্মজীবন ও শিক্ষার বাধা দূরীকরণ

যাদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতি থমকে গেছে বা শিক্ষার্থীরা যারা বারবার বিফল হচ্ছে, তাদের জন্য হনুমান চালিশা এক পরম আশ্রয়। এটি ভাগ্যের দ্বারে আসা বাধাসমূহ (Obstacles) অপসারণ করে সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে।

৮. দুঃস্বপ্ন ও নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা

অনেকে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন বা এক অজানা আতঙ্কে ভোগেন। জ্যোতিষ মতে, এটি দুর্বল চন্দ্র বা রাহুর প্রভাবে হতে পারে। শোয়ার আগে হনুমান চালিশা পাঠ করলে ঘর থেকে সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূরীভূত হয় এবং শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব হয়।

৯. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও বুদ্ধিদীপ্তি

রাহুর প্রভাবে অনেক সময় কুয়াশাচ্ছন্ন বিচারবুদ্ধির কারণে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। ‘বুদ্ধিহীন তনু জানিকৈ, সুমিরৌ পবন কুমার’—এই প্রার্থনার মাধ্যমে হনুমানজি ভক্তকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন, যা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

Hanumanji : সুরক্ষার অলক্ষ্য কবচ: কীভাবে বুঝবেন গভীর নিশিতেও আপনার ওপর বীর হনুমানের আশীর্বাদ রয়েছে?

১০. আভা বা ‘অরা’ (Aura) শক্তিশালী করা

আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে, নিয়মিত চালিশা জপ করলে মানুষের চারপাশের সূক্ষ্ম আভা বা ‘অরা’ উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়। এতে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং বাইরের কোনো অশুভ শক্তি তাকে সহজে স্পর্শ করতে পারে না।


উপসংহার

হনুমান চালিশা পাঠ করার জন্য কেবল ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রয়োজন। মঙ্গলবার বা শনিবার সূর্যোদয়ের সময় বা সূর্যাস্তের পর ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে এটি পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। আপনার রাশিফল যাই হোক না কেন, বজরংবলীর কৃপা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

Article Bottom Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর