সঙ্কল্প দে, ২৪ মার্চঃ কখনো  ফুলিয়া বাজার তো কখনো আবার ফুলিয়া স্টেশন। ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে চলেছেন পাঁপড় ভাজা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পেটের টানে ঘুরে বেড়ানো বৃদ্ধ-র চোখে মুখে তাই শুধুই বিষণ্ণতা।

শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বেলঘরিয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সাধন বসাক। বর্তমানে সাধন বাবুর বয়স ৮০ বছর । স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবার বলতে সাধন বাবুর স্ত্রী ও তাঁর এক ছেলে। তবে সাধন বাবুর অভিযোগ, রক্ত জল করা পরিশ্রমের টাকায় পড়াশোনা শিখিয়ে ছেলেকে মানুষ করলেও, চাকরি পাওয়ার পর সে সবকিছু ভুলে গিয়েছে।সামর্থ্য থাকলেও বাবা-মায়ের মুখে তুলে দেয়না দু-মুঠো ভাত।

সাধন বাবুর স্ত্রী বার্ধক্য ভাতা  পেলেও সংসার খরচ ও চিকিৎসার জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের জন্য কোন কোন সময় হাত পাততে হয় নিকট আত্মীয়দের কাছে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই সাধন বাবুকে তাই এই বৃদ্ধ বয়সেও ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে হয় পাঁপড় ভাজা।

যেটুকু অর্থ রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় সাধন বাবুকে। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগানের উদ্দেশ্যে বেশিরভাগ দিন নিজে  চা-বিস্কুট খেয়ে দিন কাটিয়ে দেন, তাতে ভাত খাওয়ার খরচটুকু বাঁচে। সরকারি সুবিধা বলতে মিলত কিছু পরিমাণ রেশনের চাল,  তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে তাই  কিভাবে সবকিছু সামলে উঠবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন বৃদ্ধ সাধন বাবু।

কিছু দিন আগে নিজের প্রাপ্য বার্ধক্য ভাতার জন্য  আবেদন জানিয়েছিলেন ।বেশ কিছু মাস অতিক্রম করলেও সরকারি নিয়মের প্যাঁচে এখনো মেলেনি তাও।

ক্ষমতায় থাকা শাসক দলের নেতা,  আমলা  কিংবা পঞ্চায়েত সদস্যরা কি নজর  রাখেন এই সব অসহায় মানুষদের ওপর? হাজারো প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে চরম দারিদ্রকে সঙ্গী করে চলা এইসব মানুষদের ওপর কেন নজর পড়েনা প্রশাসনের ? ইভিএম নিউজের প্রতিনিধি সঙ্কল্প দের নজরে আসতেই তিনি তা ফ্রেমবন্দী করেছেন। “তাহাঁদের” উপর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর লক্ষ্যেই ইভিএম নিউজের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।

Article Bottom Widget

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর