ব্যুরো নিউজ, ১৪ই মে ২০২৬ঃ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার অফিসার তথা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় তাঁর যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ইডি তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন, এই আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল। অবশেষে বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ইডি সূত্রে খবর, সিন্ডিকেটকে মদত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এই মামলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চলছিল। বুধবার তাঁকে প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তদন্তকারী আধিকারিকদের কোনও প্রশ্নেরই সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি গোপন করার চেষ্টা করছিলেন। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে ইডি তাঁকে তলব করেছিল। সেই সময় দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পু ওরফে সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরে তাঁর নাম উঠে আসে। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তল্লাশির পরদিনই শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং তাঁর দুই ছেলে সায়ন্তন ও মণীশকে তলব করা হলেও তাঁরা কেউই হাজিরা দেননি। বালি পাচার মামলার তদন্তেও তাঁকে ডেকেছিল ইডি। বারবার অসহযোগিতার পর অবশেষে ইডির জালে প্রাক্তন ওসি।
উল্লেখ্য, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস কলকাতা পুলিশের একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ এবং গ্রেফতারি রাজ্যের পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ইডি এই মামলার তদন্তে আরও গভীরে প্রবেশ করছে এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেফতারি ‘সোনা পাপ্পু’ মামলার তদন্তে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী দিনে এই মামলার তদন্তে আরও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।










