[rank_math_breadcrumb]

ব্যুরো নিউজ, ১৪ই মে ২০২৬ঃ কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসা ও বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার চালানো নিয়ে দুটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হল। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। এজলাসে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলায় সওয়াল করেন।

আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর সওয়ালে বলেন, “যেখানে যেখানে ভাঙচুর হয়েছে, সেগুলি ঠিক করে দিতে হবে। আগের হাইকোর্টের এই সংক্রান্ত নির্দেশগুলি অনুসরণ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বুলডোজার সংস্কৃতি এখানে নতুন করে আনা হচ্ছে, যা আগে ছিল না। হকার জোনগুলিতেও বুলডোজার চালানো হচ্ছে, দোকান ও মূর্তি ভাঙা হয়েছে, যা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার খর্ব করছে।” আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি অভিযোগ করেন, “আগের বারের থেকেও বেশি ভোট পরবর্তী সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রশাসন কোনও নিরাপত্তা দিতে পারছে না।” তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী পর্যায়ে ১০ জন খুন হয়েছেন এবং ১৫০-১৬০টি পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হয়ে রয়েছেন এবং মহিলাদের ওপরও প্রকাশ্যে হামলা চলছে বলে তিনি আদালতে উল্লেখ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, আদালতের রায় ছাড়া বা আইন না মেনে বুলডোজার চালানো যাবে না এবং রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার উল্লেখ করে তিনি বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানান। এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে দেওয়া হোক।

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, এটা উত্তরপ্রদেশ নয় । এখানে বুলডোজার চালানো যায় না। পাশাপাশি তিনি ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হানাহানির পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন,  “বাচ্চাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। মেয়ে, সংখ্যালঘুদেরও ছাড়া হয়নি। আমি দশ জনের নাম দিচ্ছি, যাঁরা মারা গিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখানে আলোচনা করতে চাই না। পুলিশকে নির্দেশ দিন। পুলিশ FIR নিচ্ছে না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণ, খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।”  তিনি আদালতে সওয়াল করেন, “মানুষ আতঙ্কে অফিস যেতে পারছে না। মাছের বাজার, মাংসের বাজার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে,  আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন যে, আমরা বিধানসভার ক্ষেত্র অনুযায়ী সব জায়গায় ভাঙচুর উল্লেখ করেছি। আর কী করার আছে? সব তথ্যই দেওয়া রয়েছে।  একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করুন। এই ঘটনার যেন তদন্ত হয়। এদিকে শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির কাছে হাতজোড় করে বলেন যে, প্লিজ প্লিজ স্যার। প্লিজ ফর দ্য পিপল। প্রটেক্ট দ্য পিপল। আমার একটাই শেষ বক্তব্য, রাজ্যের মানুষকে যাতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর