[rank_math_breadcrumb]

ব্যুরো নিউজ, ১৩ই মে ২০২৬ঃ ভারতের রান্নাঘরে ভোজ্য তেলের সঙ্কট এখন এক গভীর উদ্বেগের কারণ। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মুখে ভারতকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে তেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা নয়, দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি বিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমানোর ইঙ্গিতও বটে।

শিল্পমহলের অনুমান অনুযায়ী, বছরে ১.৬ থেকে ১.৬৭ কোটি টন ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আসে। পাম তেলের জন্য ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া, সূর্যমুখী তেলের জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া এবং সয়াবিন তেলের জন্য ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার উপর ভারত নির্ভরশীল। ফলে বিশ্বের কোথাও যুদ্ধ, খরা, বন্যা বা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দেখা দিলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় বাজারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একসময় ভারত ভোজ্য তেলে অনেকটাই স্বনির্ভর ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ধান ও গমের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে তেলবীজ উৎপাদন সেই হারে বাড়েনি। দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ তেলবীজের চাষ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনিয়মিত বর্ষাও উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। এই উচ্চ আমদানিনির্ভরতা টাকার দুর্বলতা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়।

রান্নার তেলের দাম বাড়লে তা শুধু পরিবারের বাজেটেই নয়, রেস্তরাঁ, ফাস্ট ফুড এবং প্যাকেটজাত খাবারের দামেও প্রভাব ফেলে। কেন্দ্র ন্যাশনাল মিশন অন এডিবল অয়েলস–অয়েলসিডস (NMEO-Oilseeds) প্রকল্প চালু করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে তেলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে এই সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর