ব্যুরো নিউজ, ১৩ই মে ২০২৬ঃ টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অরাজকতা রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়। যদিও পাপিয়া অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিধানসভার অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি।
গত কয়েক বছরে টলিউডে শুটিং বন্ধ, ফেডারেশনের হস্তক্ষেপ, ছবি মুক্তির নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট অভিনেতাদের বয়কটের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক শিল্পীই সরাসরি ফেডারেশন এবং ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন। এই ‘অশুভ শক্তি’ সংস্কৃতি জগতে অরাজকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, টলিউডকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। যারা বছরের পর বছর পদ দখল করে বসে আছেন এবং ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষদের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতা-রাজনীতিবিদদের ওপর গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে যাতে স্টুডিওপাড়ায় সুস্থ ও স্বচ্ছ কর্মসংস্কৃতি ফিরে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য—এই তিন ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে কোথায় কোথায় খামতি ছিল এবং কীভাবে তা দ্রুত সংশোধন করা যায়, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনপরিষেবা মূলক ক্ষেত্রগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বশীল আধিকারিকদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো মূল্যেই ‘দাদাগিরি’ বা ‘তোলাবাজি’ চলবে না। যোগ্যরাই শিল্প-সংস্কৃতি মহলে কাজ করবে, এমন পরিবেশ তৈরি করতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ফলোআপের নির্দেশও দিয়েছেন।









