ব্যুরো নিউজ, ২০শে মার্চ ২০২৬ : হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী গতকাল ১৯শে মার্চ, ২০২৬, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলেছে পবিত্র চৈত্র নবরাত্রি। ভারতজুড়ে এই সময়টি নববর্ষের সূচনা হিসেবেও পালিত হয়। বসন্তের এই সন্ধিক্ষণে দেবী দুর্গার নয়টি রূপ বা ‘নবদুর্গা’-র আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। সমৃদ্ধি, শক্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির কামনায় এই নয় দিন উপবাস ও ঘটস্থাপনার মাধ্যমে মহাশক্তির আরাধনা করা হয়।
নয় দেবীর মাহাত্ম্য ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
নবরাত্রির প্রতিটি দিন দেবীর একেকটি বিশেষ রূপের জন্য উৎসর্গ করা হয়, যাদের প্রত্যেকের আলাদা আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে:
মা শৈলপুত্রী ও ব্রহ্মচারিণী: প্রথম দিনে হিমালয় কন্যা শৈলপুত্রীর আরাধনার মাধ্যমে দৃঢ়তা ও সংকল্পের সূচনা হয়। দ্বিতীয় দিনে ব্রহ্মচারিণীর পূজা আমাদের জ্ঞান ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়।
মা চন্দ্রঘণ্টা ও কুষ্মাণ্ডা: দেবী চন্দ্রঘণ্টা বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক। চতুর্থ দিনে জগৎ জননী কুষ্মাণ্ডার আরাধনা করা হয়, যিনি নিজের মৃদু হাসিতে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছিলেন বলে মানা হয়।
মা স্কন্দমাতা ও কাত্যায়নী: পঞ্চম দিনে কার্তিকেয় বা স্কন্দের জননী হিসেবে বাৎসল্য ও শক্তির মেলবন্ধন ঘটে। ষষ্ঠ দিনে মহিষাসুরমর্দিনী কাত্যায়নী রূপের আরাধনা অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক।
মা কালরাত্রি ও মহাগৌরী: সপ্তম দিনে দেবীর ভয়ংকরী কালরাত্রি রূপ অজ্ঞানতা নাশ করে। অষ্টম দিনে মহাগৌরীর শুভ্র ও শান্ত রূপ ভক্তদের মনে পবিত্রতা ও শান্তি বয়ে আনে। এই দিনেই মহাসন্ধি পূজা ও অন্নপূর্ণা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
মা সিদ্ধিদাত্রী: নবম দিনে দেবী সিদ্ধিদাত্রী সর্বপ্রকার সিদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতা প্রদান করেন। এই দিনটিই ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি অর্থাৎ রাম নবমী হিসেবে পালিত হয়।
Maa Durga : জন্ম সংখ্যা ও গ্রহ অনুযায়ী মা দুর্গার আরাধনা: দূর হবে জীবনের সব বাধা
আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ও উৎসবের সমাপ্তি
চৈত্র নবরাত্রি কেবল উত্তর ভারতে সীমাবদ্ধ নয়। মহারাষ্ট্রে এটি গুড়ি পাড়োয়া এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় উগাদি উৎসবের সাথে মিলে এক মহাসম্মিলনে রূপ নেয়। ২৭শে মার্চ শুক্রবার সিদ্ধিদাত্রী পূজা ও রাম নবমীর পুণ্য তিথিতে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। নবরাত্রির প্রতিটি দিনের একটি নির্দিষ্ট বর্ণ বা রঙ (যেমন—হলুদ, সবুজ, ধূসর ইত্যাদি) ভক্তদের মানসিক অবস্থার শুদ্ধিকরণ ও প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।


















