ব্যুরো নিউজ, ১০ই মার্চ ২০২৬ : ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দুধর্মে শ্রী হনুমান শক্তি, অটল ভক্তি এবং ব্রহ্মচর্যের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। বিশেষ করে মঙ্গলবার এবং শনিবার সারা ভারতজুড়ে তাঁর ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। তবে একটি প্রচলিত রীতি নিয়ে প্রায়ই কৌতূহল দেখা দেয়—কেন মহিলাদের হনুমানজির বিগ্রহ স্পর্শ করতে বা তাঁর চরণে হাত দিয়ে প্রণাম করতে নিষেধ করা হয়? এই প্রথার মূলে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট।
ব্রহ্মচর্য ও এর গুরুত্ব
ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে, ভগবান হনুমান একজন আজীবন ‘বালব্রহ্মচারী’। আধ্যাত্মিকতায় ব্রহ্মচর্য কেবল বিবাহিত জীবন থেকে দূরে থাকা নয়, বরং এটি হলো নিজের চিন্তা, আবেগ এবং শক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। শাস্ত্র মতে, হনুমানজির অসীম শক্তি এবং দৈব ক্ষমতার উৎস হলো তাঁর এই কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন। তাই মহিলাদের জন্য তাঁর পা স্পর্শ না করার এই রীতিটি মূলত তাঁর আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি মাধ্যম, কোনোভাবেই মহিলাদের অসম্মান করার জন্য নয়।
Hanumanji : সংকটমোচন হনুমান চালিশা: জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে ১০টি অলৌকিক সুফল
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট
একটি প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনী এই বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কথিত আছে, একবার এক পরম ভক্ত মহিলা হনুমানজির চরণ স্পর্শ করতে গেলে তিনি বিনম্রভাবে তাঁকে বাধা দেন। তিনি বুঝিয়ে বলেন যে, তাঁর জীবন সম্পূর্ণভাবে শ্রীরামের সেবা এবং ব্রহ্মচর্যের পথে উৎসর্গীকৃত। তাই শারীরিক স্পর্শের চেয়ে দূর থেকে ভক্তিভরে প্রণাম জানানোই অধিক শ্রেয়। এই কাহিনীটি মূলত উপাসনার শিষ্টাচার এবং ভগবানের আদর্শের প্রতি ভক্তের শ্রদ্ধাকেই তুলে ধরে।
সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি
ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, অনেক ধর্মীয় রীতিই প্রাচীনকালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রভাবিত। বর্তমান সময়ে অনেক ভক্ত ও পণ্ডিত মনে করেন যে, প্রকৃত ভক্তি শারীরিক স্পর্শের ঊর্ধ্বে—এটি সম্পূর্ণভাবে অন্তরের বিষয়। শ্রী হনুমান সেবা, করুণা এবং উৎসর্গের প্রতীক। তাঁর আদর্শ আমাদের শেখায় যে ভক্তির পথে লিঙ্গভেদ কোনো বাধা নয়, বরং শুদ্ধ মনের নিবেদনই হলো শ্রেষ্ঠ পূজা।
Hanumanji : ভক্তি, শক্তি ও অমরত্বের সঙ্গম: কেন শ্রী হনুমান আজও মর্ত্যধামে বিরাজমান?
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, মহাবীর হনুমানের প্রতি শ্রদ্ধার এই বিশেষ রীতিটি কোনো বৈষম্য নয়, বরং এটি তাঁর আজীবন পালিত ব্রহ্মচর্যের প্রতি এক গভীর সম্মাননা। আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মনের পবিত্রতা ও একনিষ্ঠ ভক্তিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হনুমানজি যেমন শ্রীরামের চরণে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন, তেমনি একজন ভক্তও তাঁর প্রতি ভক্তি ও আনুগত্যের মাধ্যমেই প্রকৃত আশিস লাভ করতে পারেন। শারীরিক উপস্থিতির চেয়ে হৃদয়ের অভিপ্রায়ই এখানে ভক্তির আসল পরিচয়।

















