ব্যুরো নিউজ, ৯ই মার্চ ২০২৬ : নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে উপস্থিত লক্ষ লক্ষ দর্শক গতকাল সাক্ষী থাকল এক অতিমানবিক ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে বিধ্বস্ত করে ভারত কেবল শিরোপাই ধরে রাখল না, বরং প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু’বার (Back-to-back) এই ট্রফি জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ল। এটি ভারতের সব মিলিয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়।
ব্যাটিং তাণ্ডব: ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৫ রানের পাহাড় গড়ে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ইনিংসের শুরুতেই তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে কিউই বোলারদের লাইন-লেন্থ এলোমেলো করে দেন। বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠলেও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অভিষেকের পর ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষাণ। এই জুটির ১০৫ রানের পার্টনারশিপ নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। সঞ্জু স্যামসন ৮৯ রানের (৪৬ বল) এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যার ফলে এক টুর্নামেন্টে সবথেকে বেশি রানের বিরাট কোহলির রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। অন্যদিকে, ঈশান কিষাণ ৫৪ রানের (২৫ বল) ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের বিশাল লক্ষ্য নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে শিবম দুবের ক্যামিও ভারতকে ২৫৫ রানে পৌঁছে দেয়।
Asia Cup Cricket 2025 : এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ভারতের বিশ্ব রেকর্ড জয়। খেলার মাঠে অপারেশন সিঁদুর !
বোলিংয়ে দাপট: বুমরাহ ও বরুণের ভেল্কি
২৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফিন অ্যালেন এবং টিম সিফার্ট শুরুটা ঝোড়ো গতিতে করলেও ভারতীয় বোলারদের ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধির কাছে পরাস্ত হয় কিউইরা। অক্ষর প্যাটেল ইনিংসের তৃতীয় ওভারে অ্যালেন ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে ভারতকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসেন।
টিম সিফার্ট অর্ধশতরান করলেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থন পাননি। জাসপ্রিত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তী নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। বুমরাহ চার উইকেট নিয়ে কিউইদের ইনিংস ১৫৯ রানে থামিয়ে দেন। বরুণ চক্রবর্তী এবং জাসপ্রিত বুমরাহ দুজনেই এই টুর্নামেন্টের যুগ্ম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে শেষ করেন।
শোয়েব আখতারের প্রশংসা ও হার্দিকের লক্ষ্য
ভারতের এই বিপুল জয়ের পর পাকিস্তানের কিংবদন্তি বোলার শোয়েব আখতার ভারতীয় সিস্টেম এবং মেরিট-ভিত্তিক নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “আজ ভারতের পলিসি আর মেধার জয় হয়েছে। রোহিত-বিরাটের মতো লেজেন্ডদের বিদায়ের পরও ভারত যেভাবে তরুণদের নিয়ে বিশ্বজয় করল, তা সত্যিই শিক্ষণীয়।”
ম্যাচ শেষে হার্দিক পান্ডিয়া তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, “আমার মধ্যে আরও ১০ বছরের ক্রিকেট বাকি আছে এবং আমি আরও ১০টি আইসিসি ট্রফি জিততে চাই। সঞ্জু এবং ঈশানের মতো খেলোয়াড়রা যখন সুযোগ পেয়েছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে। আমি আজ অত্যন্ত গর্বিত।”
Women Cricket CWC 2025 : ৪-০! ভারতকে হারাতে পারল না পাকিস্তানের মহিলা ক্রিকেট দলও , বোলারদের দাপটে ৮৮ রানের বড় জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের।
এক নজরে ভারতের বিশ্বজয়ের খতিয়ান:
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ২০০৭, ২০২৪ এবং ২০২৬ (সর্বমোট ৩ বার)।
ওয়ানডে বিশ্বকাপ: ১৯৮৩ এবং ২০১১ (সর্বমোট ২ বার)।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি: ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২৫ (সর্বমোট ৩ বার)।
ভারত বর্তমানে ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন ইতিহাস লিখল।
















