ব্যুরো নিউজ, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : আমাদের প্রাচীন ঋষিরা ছিলেন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান। তাঁরা জানতেন যে সময়ের সাথে সাথে শব্দের অর্থ বদলে যেতে পারে, কিন্তু চিহ্ণ বা প্রতীকের আবেদন চিরন্তন। তাই তাঁরা দিব্য শক্তিকে প্রকাশ করার জন্য শব্দের চেয়ে প্রতীকের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের মতে, ভগবান গণেশ কেবল একটি মূর্তিসত্তা নন, তিনি হলেন সেই অচিন্ত্য, অব্যক্ত এবং অনন্ত শক্তি, যা চিন্তার অতীত এবং যা চিরস্থায়ী।
সর্বব্যাপী পরম চেতনা
গণেশ হলেন সেই পরম চেতনা যা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। মহাবিশ্বের যে সুশৃঙ্খল নিয়ম আমরা দেখতে পাই, তার মূলেই রয়েছেন তিনি। এই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিই হলো গণেশের উপস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তিনি প্রতিটি দিশায় এবং প্রতিটি রূপের মধ্যেই বিদ্যমান।
Ganeshji : বিঘ্নহর্তার মহিমা: ভারতের সাতটি জাগ্রত গণেশ মন্দিরের ইতিকথা
প্রতীকী তাৎপর্য: উদর ও সর্প
গণেশের বিশাল উদর এবং তার চারপাশে জড়ানো সর্প একটি গভীর আধ্যাত্মিক বার্তা বহন করে। বিশাল উদরটি হলো সমস্ত অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ বা হজম করার প্রতীক, আর সর্পটি হলো পূর্ণ সচেতনতা। অর্থাৎ, জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিকে পূর্ণ সচেতনতার সাথে গ্রহণ করাই হলো গণেশ তত্ত্বের শিক্ষা।
শুঁড়: জ্ঞান ও কর্মের ভারসাম্য
হাতির দীর্ঘ শুঁড় এক বিশেষ সামঞ্জস্যের প্রতীক। আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে কেবল জ্ঞান অর্জন করলেই চলে না, তার সাথে সঠিক কর্মের সমন্বয় প্রয়োজন। গণেশের এই রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত জ্ঞানালোক বা ‘এনলাইটেইনমেন্ট’ হলো জ্ঞান এবং কর্মের মধ্যবর্তী এক নিখুঁত ভারসাম্য।
Ganeshji : বিঘ্নহর্তা গণপতি: তাঁর পবিত্র নামসমূহের মহিমা ও জীবনদর্শন
মূলাধার চক্র ও অভ্যন্তরীণ শক্তি
যোগশাস্ত্রে গণেশের গুরুত্ব অপরিসীম। সমস্ত যোগী তাঁদের সাধনায় মেরুদণ্ডের নিচে অবস্থিত শক্তি কেন্দ্র বা ‘মূলাধার চক্রে’ গণেশের শক্তি অনুভব করেন। তিনি আমাদের অন্তরের সেই প্রাথমিক শক্তি যা আধ্যাত্মিক যাত্রার সূচনা করে।
বাধা অতিক্রমের চাবিকাঠি
পরিশেষে, গণেশ আমাদের এই শিক্ষাই দেন যে প্রজ্ঞা এবং জ্ঞানই হলো জীবনের সমস্ত বাধা অতিক্রম করার এবং সাফল্য অর্জন করার মূল চাবিকাঠি। বিঘ্নহর্তা হিসেবে তিনি আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করেন, যাতে আমরা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় পথেই সিদ্ধি লাভ করতে পারি।


















