bringing lashmi devi home

ব্যুরো নিউজ, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : হিন্দুধর্মে দেবী লক্ষ্মী হলেন ধন, ধান্য এবং সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী। এই বস্তুগত পৃথিবীতে জীবন ধারণের জন্য ধন ও ধান্যের গুরুত্ব অপরিসীম, আর এই দুইয়েরই উৎস হলো দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ। প্রতিটি গৃহস্থই চান তাঁর সংসারে লক্ষ্মীর চপলতা দূর হয়ে স্থিতিশীল সমৃদ্ধি আসুক। তবে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মা লক্ষ্মী সব ঘরে সমানভাবে অবস্থান করেন না। কোনো গৃহে প্রবেশের আগে তিনি বিশেষ কিছু গুণ বা লক্ষণের বিচার করেন।

নিচে এমন ৬টি বিষয়ের কথা আলোচনা করা হলো, যা আপনার বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আগমন ও অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে:

১. পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ

মা লক্ষ্মী শুচিতা ও পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত প্রিয়। মনে করা হয়, যে বাড়িতে ময়লা জমে থাকে বা আসবাবপত্র অগোছালো থাকে, সেখান থেকে তিনি বিমুখ হন। ঘরবাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখলে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়, যা দেবীকে আকর্ষণ করে।

Lakshmi Devi : ঐশ্বর্য লাভের আগে শ্রীলক্ষ্মীর পাঁচটি আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা

২. শান্তিপূর্ণ ও প্রেমময় পরিবেশ

কলহ বা অশান্তি যেখানে নিত্যদিনের ঘটনা, সেখানে মা লক্ষ্মী স্থায়ী হন না। যে পরিবারে সদস্যরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যেখানে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকে, সেখানেই দেবীর বাস। নেতিবাচকতা বা তিক্ততা বর্জন করলে গৃহ শান্তিময় হয়ে ওঠে।

৩. নিয়মিত পূজা ও আধ্যাত্মিক চর্চা

প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো, ধূপ-ধুনো দেওয়া এবং নিষ্ঠার সাথে ইষ্টদেবতার স্মরণ করলে গৃহের পবিত্রতা বজায় থাকে। আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলাই হলো দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভের মূল চাবিকাঠি। ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে গৃহকোণ ঐশ্বরিক শক্তিতে ভরে ওঠে।

৪. তুলসী সেবা ও গো-সেবা

সনাতন ধর্মে তুলসী গাছ ও গরুকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। যে বাড়িতে নিয়মিত তুলসী তলায় জল দেওয়া হয় এবং সন্ধ্যার সময় প্রদীপ জ্বালা করা হয়, সেখানে মা লক্ষ্মী সদয় থাকেন। একইভাবে গো-সেবা বা গরুকে ভোজন করালেও দেবীর বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়।

৫. সততা ও নৈতিক জীবনযাপন

অর্থ উপার্জনের পথ যদি অসৎ হয়, তবে সেই সম্পদ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মা লক্ষ্মী কেবল সেই গৃহেই স্থায়ী অবস্থান করেন যেখানে সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা মেনে চলা হয়। ছলচাতুরি বা অনৈতিকতা বর্জন করে শুদ্ধ মনে জীবনযাপন করলে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটে এবং সমৃদ্ধি আসে।

Maa Santoshi : শুভ, লাভ ও সন্তোষ: গণেশ-দুহিতা সন্তোষী মার আধ্যাত্মিক বার্তা

৬. প্রবেশপথের সাজসজ্জা ও মাঙ্গলিক চিহ্ন

বাড়ির প্রবেশপথ বা প্রধান দরজাই হলো দেবীর আগমনের পথ। প্রবেশপথটি পরিষ্কার রাখা এবং তোরণ, ফুল বা মাঙ্গলিক চিহ্ন (যেমন স্বস্তিক বা আলপনা) দিয়ে সাজানো থাকলে তা শুভ শক্তিকে স্বাগত জানায়। নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক সাজসজ্জা সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করে।

এই সরল অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার গৃহে কেবল সম্পদই নয়, বরং শান্তি ও পবিত্রতাও বজায় থাকবে।

Article Bottom Widget

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর