ব্যুরো নিউজ, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন সরগরম পরিস্থিতি। ঠিক এই আবহেই বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন উপহার নিয়ে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্প (Banglar Yuva Sathi) নিয়ে রাজ্যে এখন সাজ সাজ রব। একদিকে যখন সরকার পক্ষ এটিকে বেকারদের পাশে দাঁড়ানোর বড় পদক্ষেপ বলছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবির একে ‘পুরানো মদের নতুন বোতল’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি: কারা পাবেন এই সুবিধা?
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মহীন যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার প্রয়োজন:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
সময়সীমা: সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়া যাবে।
অন্যান্য সুবিধা: যারা ইতিমধ্যেই স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, রূপশ্রী বা শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাও এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।
Prashant Kishore, Supreme Court : লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম বিহারের অনুদান: পিকের দ্বিমুখী নীতি কি আত্মঘাতী হলো? সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা প্রশান্ত কিশোরের !
আবেদনের পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আপাতত কোনো অনলাইন পোর্টাল চালু না হলেও www.wbsportsandyouth.gov.in ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে। আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে: ১. আধার কার্ড ২. মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র ৪. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি ৫. একটি সচল মোবাইল নম্বর।
এপ্রিল থেকেই টাকা: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
বাজেটে এই প্রকল্প অগস্ট মাস থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত এক বৈঠকে জানান যে, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘোষণা রাজ্যের বেকারদের জন্য বড় প্রাপ্তি বলেই মনে করছে শাসকদল।
বিরোধীদের তোপ: “যুবশ্রীই কি নাম বদলে যুব সাথী?”
এদিকে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই প্রকল্পকে ‘আইওয়াশ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এটি আসলে পুরনো ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পেরই নামান্তর। ২০১৭ সালেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তার সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এছাড়াও অনলাইনে আবেদনের সুবিধা না রেখে কেন রোদে লাইনে দাঁড় করিয়ে ক্যাম্প করা হচ্ছে এবং কেন সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
West Bengal Election politics : বামেদের কাস্তে ছাড়ল হাত শিবির: ২৬-এর লড়াইয়ে ২৯৪ আসনেই একা লড়বে কংগ্রেস
কর্মসংস্থানের পরিবর্তে ভাতা?
শিক্ষা দুর্নীতি এবং চাকরির দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের আবহে এই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকদের মতে, স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব ঢাকতেই কি এই ‘ভাতা’র রাজনীতি? ২০২১-এর ‘ডবল ডবল’ চাকরির প্রতিশ্রুতির বদলে এখন ২০২৬ এ ‘ডবল ডবল’ ভাতার টোপ দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে চায়ের দোকানে তর্কের ঝড় উঠছে।




















