maa ganga

ব্যুরো নিউজ, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : হিন্দু ঐতিহ্যে গঙ্গা নদীকে ‘মা’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়, যা তাঁর দেবত্বের চেয়েও বড় এক পরিচয়কে তুলে ধরে। কোনো দেবী হয়তো দূর থেকে পূজিতা হন, কিন্তু মা থাকেন সন্তানের অতি কাছে। গঙ্গা নদী ঠিক সেভাবেই আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছেন—যেখানে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মিশেলে এক গভীর ভরসার সম্পর্ক বিদ্যমান।

বিচারহীন গ্রহণ ও পরম আলিঙ্গন

মা গঙ্গা কোনো ভেদাভেদ জানেন না। সাধু হোক বা পাপী, তিনি সকলকেই সমানভাবে আলিঙ্গন করেন। হিন্দু পুরাণ মতে, গঙ্গার পবিত্র জল মানুষের পাপ, শোক এবং যন্ত্রণা ধুয়ে মুছে দেয়। একজন মা যেমন সন্তানের সব ভুলভ্রান্তি ও কষ্ট নিজের বুকে টেনে নিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন, গঙ্গাও ঠিক তেমন। তিনি আমাদের মানসিক প্রশান্তির এক নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে মানুষ নিজেকে শুদ্ধ করার এবং নতুন করে জীবন শুরু করার প্রেরণা পায়।

Maa Shakti : শক্তির আরাধনা: ভক্তি ও ভীতির এক অপূর্ব সহাবস্থান

জীবনদায়ী মাতৃরূপ

একটি সন্তান যেমন মায়ের ওপর নির্ভর করে বেড়ে ওঠে, গঙ্গা নদীও তেমনই কোটি কোটি প্রাণকে অন্ন ও জল দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে বিশাল সভ্যতা। ফসলের ক্ষেত থেকে শুরু করে পশু-পাখি—সবার তৃষ্ণা মেটান তিনি। কোনো প্রতিদান ছাড়াই তাঁর এই নিরন্তর দান প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শক্তি শাসন করার মধ্যে নয়, বরং সেবা ও লালন-পালন করার মধ্যেই নিহিত।

নিরবে যাতনা বহন ও মুক্তিদান

মানুষ তাঁদের চোখের জল, শোক আর প্রিয়জনের অস্থি গঙ্গার জলে বিসর্জন দেয়। মা গঙ্গা কোনো অভিযোগ ছাড়াই এই সমস্ত ভার নিজের মধ্যে শুষে নেন। স্বর্গের এই নদী মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন মানুষের দুঃখ মোচন করতে। তাঁর শান্ত প্রবাহ আমাদের শেখায় যে ধৈর্য এবং করুণার মাধ্যমেই জীবনের কঠিনতম সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি শোককে শান্তিতে রূপান্তর করার এক অলৌকিক ক্ষমতা রাখেন।

মন্দিরে নয়, তিনি আছেন আমাদের পাশেই

সাধারণত দেবদেবীদের আমরা মন্দিরে পূজা করি, কিন্তু গঙ্গা প্রবাহিত হন আমাদের বাড়ির আঙিনায়, আমাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যে। ছোটরা তাঁর জলে খেলা করে, বড়রা তাঁর তীরে প্রার্থনা করেন। তিনি আমাদের প্রতিদিনের জীবন, আচার-অনুষ্ঠান এবং উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর এই সহজলভ্যতা আমাদের মনে ভয় নয়, বরং গভীর এক আত্মিক টান তৈরি করে।

Maa Shakti : মাতৃশক্তি ও স্কন্দমাতার যোগসূত্র: সপ্ত মাতৃকা উপাসনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

ক্ষমা ও নবজাগরণ

গঙ্গাস্নান কেবল শরীর পরিষ্কার করা নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণ। গঙ্গার জল আমাদের শেখায় যে কোনো ভুলই স্থায়ী নয়; ক্ষমা ও ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিটি আত্মা নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে পারে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বয়ে চলা এই নদী আমাদের শেখায় অতীতকে আঁকড়ে না ধরে ক্ষমা আর আশাকে সম্বল করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর