Lord Ganesh temples

ব্যুরো নিউজ, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ : ভগবান গণেশ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও পূজিত দেবতা। ভক্তদের বিশ্বাস, বিঘ্নহর্তার আশীর্বাদ জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি নাশ করে উন্নতির পথ প্রশস্ত করে। প্রজ্ঞা ও সমৃদ্ধির দেবতা হিসেবে তাঁর দিব্য কৃপা আমাদের জীবনকে সর্বতোভাবে উন্নত করতে পারে। যদিও বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাঁর আরাধনা করা সম্ভব, কিন্তু ভারতের কয়েকটি বিশেষ প্রাচীন ও জাগ্রত মন্দিরে সিদ্ধিদাতা গণেশের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। নিম্নে সেই পুণ্যক্ষেত্রগুলির বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

১. মোরগাঁওয়ের মোরেশ্বর মন্দির

মহারাষ্ট্রের পুণে জেলায় অবস্থিত এই মন্দিরটি গণেশ ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। ভারতের বিখ্যাত আটটি গণেশ মন্দির বা ‘অষ্টবিনায়ক’ তীর্থযাত্রার এটিই আদি এবং অন্তিম বিন্দু।

  • বিশেষত্ব: মন্দিরের গর্ভগৃহে ভগবান গণেশকে ময়ূরের ওপর আসীন অবস্থায় দেখা যায়।

  • মূর্তি: তাঁর শুঁড়টি বাম দিকে ঘোরানো এবং একটি নাগ বা কোবরা দ্বারা সুরক্ষিত।

  • মাহাত্ম্য: ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, কোনো নতুন শুভ কাজ শুরু করার আগে মোরেশ্বর মন্দিরে পুজো দিলে সেই কাজে নিশ্চিত সাফল্য আসে।

Ganeshji : আধ্যাত্মিক দর্পণ: কেন ক্ষুদ্র ইঁদুরই গণেশের শ্রেষ্ঠ বাহন?

২. মুম্বইয়ের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির

মুম্বইয়ের এই মন্দিরটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থস্থান যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। ১৮০১ সালে লক্ষ্মণ বিঠ্ঠু পাটিল নামের এক কৃষক এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

  • প্রেক্ষাপট: এই মন্দির নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন দেউবাই পাটিল নামের এক নিঃসন্তান মহিলা।

  • মাহাত্ম্য: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্তানহীন দম্পতিরা যদি এখানে ভক্তিভরে প্রার্থনা করেন, তবে তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয় এবং অলৌকিক ফল পাওয়া যায়।

৩. তামিলনাড়ুর করপাকা বিনায়ক মন্দির

এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন গণেশ মন্দির। এখানকার বিগ্রহটি প্রায় ১৬০০ বছরের পুরনো এবং এটি একটি মাত্র পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে।

  • মূর্তি: এখানকার গণেশ মূর্তির শুঁড়টি ডান দিকে ঘোরানো, যা ভগবানের অসীম শক্তি ও দয়ার প্রতীক।

  • মাহাত্ম্য: ‘করপাকা’ নামটির অর্থ হলো ‘কল্পবৃক্ষ’। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে প্রার্থনা করলে ভগবান ভক্তের সব ইচ্ছা পূরণ করেন, ঠিক যেমনটি পৌরাণিক কল্পবৃক্ষ করে থাকে।

৪. সিদ্ধটেকের সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির

অষ্টবিনায়ক তীর্থের অন্যতম এই মন্দিরে তিন ফুট উচ্চতার একটি পাথরের গণেশ মূর্তি রয়েছে।

  • পৌরাণিক কাহিনী: জনশ্রুতি আছে যে, এই মন্দিরটি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও পরবর্তীতে এক রাখাল বালকের দিব্য দর্শনের ফলে মন্দিরটি পুনঃনির্মিত হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: এখানকার মূর্তির শুঁড়টিও ডান দিকে ঘোরানো, যা প্রচণ্ড শক্তির পরিচায়ক।

  • ফলশ্রুতি: বলা হয়, এই মন্দিরে আসীন ভগবানের শরণাপন্ন হলে এমন কোনো বাধা নেই যা দূর করা সম্ভব নয়।

Ganeshji : বিঘ্নহর্তা গণেশ: কেন বুধবার তাঁর আরাধনার শ্রেষ্ঠ দিন

ভারতের এই পবিত্র মন্দিরগুলি কেবল স্থাপত্যের নিরিখে নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ভক্তিবাদী ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে কোটি কোটি মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর

বিশ্ব জুড়ে

গুরুত্বপূর্ণ খবর